নবী ওলীর দুশমনেরা হুশিয়ার সাবধান | maulana mufti gias uddin at-tahery | bangla waz 2016

ওলী আল্লাহ যেখানে আমরা আছি সেখানে | maulana mufti gias uddin at-tahery | bangla waz 2016

বুযুর্গানে কেরামের হাত-পা চুম্বন

বুযুর্গানে কেরামের হাত-পা চুম্বন
মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম কাদেরী

শিষ্টাচার একটি মানবীয় বিশেষগুণ, যার দ্বারা মানুষ নিজেই অন্যের সম্মানের পাত্র হয়। ইসলামে শিষ্টাচার একটি উত্তম আদর্শ বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহর অলীগণের হাত-পা চুমু দেওয়া , তাঁদের পবিত্র বস্তু, চুল, পোশাক-পরিচ্ছেদ ও ব্যবহৃত বস্তু ইত্যাদির সম্মান করা, চুমু দেওয়া এর মধ্যে অন্যতম। নি¤েœ কতিপয় দলীলের ভিত্তিতে তা প্রমাণ করা হল-
১. পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়া জায়েয। পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ ফরমান- وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًاوًّقُوُلُوُاحِطَّةٌ- -অর্থাৎ ওহে বনী ঈসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাসের দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল আমাদের গুনাহ মাফ করা হোক।  এ আয়াত থেকে অবগত হওয়া গেল যে আম্বিয়া কিরাগণের আরামগাহ বায়তুল মুকাদ্দাসকে সম্মান করা হলো অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে ওখানে নতশিরে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ আয়াত দ্বারা এটাও বোঝা গেল যে, পবিত্র স্থান সমূহে তাওবা তাড়াতাড়ি কবুল হয়।
২. মিশ্কাত শরীফের- اَلْمُصَافَحَةِ وَالْمُعَانَقَةُ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে-عنْ زَرَاعٍ وَكَانَ فِيْ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ لَمَّا قَدمْنَا الْمَدِيْنَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلَ يَدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّي الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه- – অর্থাৎ- হযরত যারা‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যিনি আব্দুল কায়সের প্রতিনিধিভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় আসলাম তখন আমরা নিজ নিজ বাহন থেকে তারাতারি অবতরন করতে লাগলাম। অত:পর আমরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পবিত্র হাত-পা মোবারক চুমু দিয়েছিলাম। মিশ্কাত শরীফের اَلْكَبَائِرِ وَعَلَامَاْتِ النِّفَاقِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ছাফওয়ান ইবনে আস্সাল থেকে বর্ণিত আছে- (অতঃপর হুযুর আলাইহিস সালামের হাত ও পা মুবারকে চুমু দেন) ।
* আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَبَّلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُثْمَانَ ابْنُ مَطْعُوْنٍ وَهُوَمَيِّتٌ – অর্থাৎ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উছমান ইবনে মাতউনকে মৃতাবস্থায় চুমু দিয়েছেন।
৩. ইমাম বুখারী (রা:) ‘যিরা ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা‘র দরবারে হাজির হই, কিন্তু আমি তাঁকে চিনতাম না। জনৈক ব্যক্তি আমাকে ইশারা করে বললেন, “ইনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অত:পর আমি তাঁর পবিত্র হস্তদ্বয় ও পদদ্বয় ধরে চুম্বন করতে লাগলাম”।
৪. হযরত সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত اِنَّ قَوْمًا مِّنَ الْيَهُوْدِىِّ قَبَّلَ اَيْدِىَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَقَبَّلَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ – অর্থাৎ, ইহুদীদের একটি গোত্র নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হস্ত-পদ মুবারক চুম্বন করেছে।
৫.হাদীস শরীফে আরো এসেছে-
حدثنا موسي بن اسماعيل قال حدثنا مطر بن عبد الرحمن الا عنق قال حدثني امرأة من صباح عبد القيس يقال لها ام ابان ابنه الوازع عن جدها ان جدها الوازع ابن العامر قال قدمنا فقبا ذلك رسول الله فاخذنا بيده ورجليه نقبلها- –
অর্থাৎ, আব্দুল কায়স প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হযরত ওয়াযে‘ ইবনে আমের (রাঃ) বলেন, একদা আমি মদীনা শরীফে পদার্পন করলে জনৈক ব্যক্তি বলেন, তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল। অত:পর আমরা হুজুরের পবিত্র হাত ও পদযুগল মোবারক ধরে চুম্বন করলাম।
৬.বুখারী শরীফের আল-আদাবুল মুফরাদে উল্লেখ আছে-
حدثنا عبد الرحمن بن المبارك قال حدثنا سفيان بن حبيب قال حدثنا شعبة قال حدثنا عمر وعن ذكوان عن صهيب قال رأيت عليّا يقبل يد العباس ورجليه-
অর্থাৎ, হযরত সোহাইব (রাঃ) বলেন, আমি হযরত আলী (রাঃ) কে দেখেছি, তিনি হযরত আব্বাস (রাঃ) কে হাত ও পায়ে চুমু দিচ্ছেন।
ان قبل يد عالم او سلطان عادل بعلمه لا باس به-
যদি আলিম বা ন্যায়পরায়ণ বাদশার হাতে-পায়ে চুমু দেয়া হয় তাঁদের ইলম ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে, তাহলে এতে কোন ক্ষতি নেই ।
৭. প্রসিদ্ধ শিফা শরীফে উল্লেখিত আছে-
كَانَ اِبْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَهْ عَلَى الْمِنْبَرِ الَّذِىْ يَجْلِسُ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الْخُطْبَةِ ثُمّ يَضَعُهَاعَلَى وَجْهِهِ-
যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুৎবা দিতেন, হযরত আব্দুল্লাহ্ইবনে উমর (রাঃ) সেটাতে হাত লাগিয়ে মুখে মাখতেন (চুমু দিতেন)।
৮. আল্লামা ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী শরহে বুখারীর ষষ্ঠ পারার ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
اِسْتَنْبَطَ بَعْضُهُمْ مِنْ مَشْرُوْعِيَّةِ تَقْبِيْلِ الْاَرْكَانِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ كُلِّ مَنْ يَّسْتَحِقُّ الْعَظْمَةَ مْن اَدَمِىٍّ وَغَيْرِهِ نُقِلَ عَنِ الاِمَامْ اَحْمَدَ اَنَّه ‘سُئِلَ عَنْ تَقْبِيْلِ مِنْبَرِ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ وَتَقْبِيْلِ قَبْرِهِ فَلَمْ يَرَ بِهِ بَاسًا وَّنُقِلَ عَن ابْنِ اَبِى الصِّنْفِ اليَمَانِى اَحَدِ عُلَمَاءِ مَكَّةَ مِنَ الشَّافِعِيَّةِ جَوَازَ تَقْبِيْلِ الْمُصْحَفِ وَاَجْزَاءِ الْحَدِيْثِ وَقُبُوْرِ الصَّالِحِيْنَ مُلْخَصًا-
অর্থাৎ, কা‘বা শরীফের স্তম্ভগুলোর চুম্বন থেকে কতেক উলামায়ে কিরাম, বুযুর্গাণে দ্বীন ও অন্যান্যদের পবিত্র বস্তুসমুহ চুম্বনের বৈধতা প্রমাণ করেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল- হুযূর আলাইহিস সালামের মিম্বর বা পবিত্র কবর মুবারকে চুমু দেয়াটা কেমন? তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন, কোন ক্ষতি নেই। মক্কা শরীফের শাফেঈ উলামায়ে কিরামের অন্যতম হযরত ইবনে আবিস সিন্ফ ইয়ামানী থেকে বর্ণিত আছে- কুরআন করীম ও হাদীছ শরীফের পাতাসমূহ এবং বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহ চুমু দেয়া জায়েয।  দুররুল মুখতারের পঞ্চম খন্ড কিতাবুল কারাহিয়াতের শেষ অধ্যায় الاستبراء এর মুসাফাহা পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছেÑ
وَلَا بَاسَ بِتَقْبِيْلِ يَدِا الْعَالِمِ وَالسُّلْطَنِ الْعَادِلِ-
অর্থাৎ, আলিম ও ন্যায়পরায়ণ বাদশার হাতে চুমু দেয়ায় কোন ক্ষতি নেই।  এ জায়গায় ফাত্ওয়ায়ে শামীতে হাকিমের একটি হাদীছ উদ্ধৃত করেছে, যার শেষাংশে বর্ণিত আছে-
قَال ثُمَّ اَذِنَ لَه ‘فَقَبَّلَ رَأْسَه وَرِجْلَيْهِ وقَالَ لَوْ كُنْتُ اَمِرًا اَحَدًا اَنْ تَسْجُدَ لَاحَدٍ لَاَمَرْتُ الْمَرْأَةَ اَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَقَالَ صَحِيْحُ الْاَسْنَادِ-
হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ব্যক্তিকে অনুমতি দিয়েছেন। তাই সে তাঁর মস্তক ও পা মুবারক চুমু দিলেন। অতঃপর হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান যদি আমি কাউকে সিজ্দার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে হুকুম দিতাম স্বামীকে সিজ্দা করতে।
প্রখ্যাত ‘তুশেখ’ গ্রন্থে আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ুতী (রহঃ) বলেছেন-
اِسْتَنْبَطَ بَعْضُ الْعَارِفِيْنَ مِنْ تَقُبِيْلِ الْحَجَرِالْاَسْوَدِ تَقْبِيْلَ قُبُورِالصَّالِحِيْنَ-
হাজরে আসওয়াদের চুম্বন থেকে কতেক আরেফীন বুযুর্গানে কিরামের মাযারে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করেছেন।
চুম্বন পাঁচ প্রকারঃ
* আশীর্বাদসূচক চুম্বন। যেমন, বাবা ছেলেকে চুমু দেয়।
* সাক্ষাৎকারের চুম্বন। যেমন, কতেক মুসলমান কতেক মুসলমানকে চুমু দেয়।
* স্নেহের চুম্বন। যেমন, ছেলে মা-বাবাকে দেয়।
* বন্ধুত্বের চুম্বন। যেমন, এক বন্ধু অপর বন্ধুকে চুমু দেয়।
* কামভাবের চুম্বন। যেমন, স্বামী স্ত্রীকে দেয়।
কেউ কেউ ধার্মিকতার চুম্বন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদের চুম্বনকে এর সাথে যোগ করেছেন। আদ-দুররুল মুখতারে আলমগীরীর মত পাঁচ প্রকার চুম্বনের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে নিম্ন লিখিত বক্তব্যটুকু বর্ধিত করেছেন-
قُبْلَةُ الدِّيَانَةِ لِلْحَجْرِ الْاَسْوَدِ وَتَقْبِيْلُ عُتْبَةِ الْكَعْبَةِ وَتَقْبِيْلُ الْمُصْحَفِ قِيْلَ بِدْعَةِ لَكِنْ رُوِىَ عَنْ عُمَرَ اَنَّه‘ كَانَ يَاْخُذُ الْمُصُحَفِ كُلَّ غَدَاةٍ وَّيْقَبِّلُهْ وَاَمَّا تَقْبِيْلُ الْخَبْزِ فَجَوَّزَ الشَّافِعِيَّةُ اَنَّه‘ بِدْعَةٌ مُّبَاحَةٌ وَّقِيْلَ حَسَنَةٌ مُّلَخَّصًا-
অর্থাৎ দ্বীনদারীর এক প্রকার চুম্বন রয়েছে, সেটা হচ্ছে হাজরে আসওয়াদে চুম্বন ও কা‘বা শরীফের চৌকাঠে চুম্বন। কুরআন পাককে চুমু দেয়াটা কতেক লোক বিদ‘্আত বলেছেন। কিন্তু হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি প্রতিদিন সকালে কুরআন পাক হাতে নিয়ে চুমু খেতেন এবং রুটি চুমু দিয়াকে শাফেঈ মাযহাবের লোকেরা জায়েয বলেছেন। কেননা এটা বিদ্আতে জায়েযা। অনেকে এটাকে বিদ্‘আতে হাসানা বলেছেন।
আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ ফরমান-
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ اِبْرَاهِيْمَ مُصَلَّى-
অর্থাৎ, (তোমরা মক্বামে ইব্রাহীমকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর)  মাকামে ইব্রাহীম ওই পাথরকে বলে, যেটার উপর দাঁড়িয়ে হযরত ইব্রাহীম খলীল (আঃ) কা‘বা শরীফ তৈরী করেছেন। তাঁর পবিত্র কদমের বরকতে সেই পাথরের এ মর্যাদা লাভ হলো- সারা দুনিয়ার হাজীরা ওই দিকে মাথানত করে। এ সব ইবারত থেকে প্রতীয়মান হলো- চুম্বন কয়েক প্রকারের আছে এবং পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়াটা দ্বীনদারীর আলামত।
* তারিখে নিশাপুরে বর্ণিত- ‘মহান ব্যাক্তিদের হস্তপদ চুম্বন করা মুস্তাহাব’ ।
* ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ইলমে হাদীসের প্রবক্তা আল্লামা শায়খ শাহ্ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) বলেছেন- কদমবুচি (পা চুম্বন) করা জায়েজ আছে ।
* হযরত বড়পীর সৈয়্যদ আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) এর বয়স ১৮ বছর, তখন উচ্চ শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে বাগদাদ শরীফে যাওয়ার সময় বিদায়ের প্রাক্কালে তাঁর মাকে কদমবুচি করেন, যা ছিল তাঁর মায়ের সাথে শেষ সাক্ষাত। আর মা তাঁকে বিদায়লগ্নে নসিহত করেন, সদা সত্যকথা বলবে কোন দিন মিথ্যা কথা বলবে না ।
ক্রান্তিতে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের পবিত্র বাণী-
مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيْرَنَا وَلَمْ يُوَقِّرْ كَبِيْرَنَا فَلَيْسَ مِنَّا-
অর্থাৎ, যে বড়কে সম্মান করে না এবং ছোটকে ¯েœহ করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়।  সুতরাং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই শিক্ষা।
উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হলো যে, আদব, ভক্তি, সম্মান প্রদর্শণার্থে বুযুর্গানে দ্বীন,পিতা-মাতা, শিক্ষকমন্ডলী, পীর-মাশায়েখগণের হস্ত-পদ চুম্বন অনুরূপ কাবা শরীফ, কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের পাতা সমূহের উপর চুম্বন জায়েয ও বরকতময়। এমনকি বুযুর্গানে দ্বীনের চুল, পোশাক ও অন্যান্য পবিত্র বস্তুর সম্মান করা এবং যুদ্ধকালীন ও অন্যান্য মুসিবতের সময় এগুলো থেকে সাহায্য লাভ করা কুরআন কারীম থেকে প্রমাণিত আছে। কুরআন কারীমে ইরশাদ ফরমান-
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ اِنَّ اَيَةَ مُلْكِهِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ التَّابُوْتُ فِيْهِ سَكِيْنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ اَلُ مُوْسَى وَاَلُ هَرُوْنَ تَحْمِلُهُ اَلْمَلَئِكَةُ-
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,তোমরা আমার ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধর এবং এটা তোমাদের জন্য অবশ্যই কর্তব্য  অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, أصحابي كالنجوم بأيّهم اقتديتم اهتديتم -আমার সাহাবীগণ তারকারাজির ন্যায়, তোমরা যাকেই অনুসরন করবে সৎ পথ পাবে।
সুতরাং বুঝা গেল যে, যারা কদমবুচি করাকে বিদ‘আত, শিরক, হিন্দুদের নিয়ম ইত্যাদি বলে থাকে, তারা মূলতঃ পবিত্র কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যাকারী, সমাজে ফেতনা সৃষ্টিকারী, ভ্রান্ত আকী¡দায় বিশ^াসী এবং তারাই ওহাবী নামে আখ্যায়িত। আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদের ঈমান ও আমল হেফাজত করুন। আমিন! বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।

কবি নজরুলের লিখনিতে নবী প্রেমের উন্মেষ – একটি বিশ্লেষণ

কবি নজরুলের লিখনিতে নবী প্রেমের উন্মেষ ঃ একটি বিশ্লেষণ
মাও. আ.ম.ম. মাছুম বাকী বিল্লাহ

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঙ্গালী জাতির ও বাংলা সাহিত্যের এক মহা সম্পদ। নজরুলের জন্ম বাঙালী মুসলিম সমাজে। সব মহৎ শিল্পী-সাহিত্যিকদের মত তিনি স্ব-জাতি মুসলমানদের জন্য তাঁর জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভেবেছেন। বিশেষ করে বাঙালী মুসলিম সমাজের জন্য তাঁর কলম ছিল ক্ষুরধার। আর এ জন্যই তিনি নিজের বিণীত পরিচয়ে “খাদেমুল ইসলাম নজরুল ইসলাম” লিখতেও এতটুকুন কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি তাঁর লিখনীতে মুসলমানদের নবী বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত, স্বাধীনতার মুক্তির সনদ ও করুণার মূর্ত প্রতীক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মোজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি যে বর্ণনাতীত  ভালোবাসা, প্রেম ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তা হয়ত আর কোন বাঙালী সাহিত্যিক দেখিয়ে যাননি। কি তাঁর গান, কি কবিতা সব জায়গায় তিনি রাসূল প্রেমের এক দ্যূতি ছড়িয়েছেন। যা আজো কোটি মুসলমানদের মুখের কথা, প্রাণের কথা। আমার গবেষণায় আমি তাঁকে রাসূল প্রেমে এমন এক মহান সাধক ও চিরবিভোর অবস্থা পেয়েছি যেন তিনি তাঁর সবকিছু নবী প্রেমে সপে দিয়েছেন আর নিজেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন বাধ্য শিষ্য রুপে আত্মপ্রকাশ করাতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।
কবিতায় দরুদ ঃ
কবি নজরুল লিখেন-
উরজ্ য়্যামেন্ নজ্দ হেজাজ্ তাহামা ইরাক শাম
মেসের ওমান্ তিহারান-স্মরি’ কাহার বিরাট নাম,
পড়ে- “সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম”
কবি এখানে ইয়ামেন, নজদ, হিজাজ, ইরাক, ইরান, মিসর, ওমান ও তেহরান সহ বিশ্বব্যাপী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক নিয়ে মানুষ কিরুপ শ্রদ্ধা ও পূর্ণভক্তি সহকারে উনার প্রতি দরুদ পড়েন তার উল্লেখ করেন।
কবি আরো বলেন- “আমার সালাম পৌছে দিও নবীজীর রওজায়”
সৃষ্টির প্রাণ ঃ
নজরুল তাঁর কবিতায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সৃষ্টিজগতের দম বা প্রাণ বলে সম্বোধন করেছেন। তাঁর ইনতিকালের পর মক্কা ও মদিনার অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
মক্কা ও মদিনায় আজ শোকের অবধি নাই।
যেন রোজ-হাশরের ময়দান, সব উন্মাদ সম ছুটে !
কাঁপে ঘন ঘন কাবা, গেল গেল বুঝি সৃষ্টির দম টুটে !
আর মিরাজের রজনীতে সৃষ্টিজগতের সেই প্রাণ আল্লাহর কাছে সৃষ্টি জগতের উর্ধ্বে লা মাকামে  যাওয়ার কারণেই পৃথিবীর সবকিছু ছিল অচল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে এসে দেখেন, তাঁর যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে সম্পন্ন করা অযুর পানি এখনো গড়িয়ে যাচ্ছে, বিছানাটা এখনো উষ্ণ। অথচ ঘুরে এসেছেন অগণিত মাইলের দূরপথ।
আয়াতের অনুবাদ ঃ
আমপারার দুটি আয়াতে আল্লাহ পাক বিশেষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন। আর নজরুল তার কাব্যিক অনুবাদ করেছেন এইভাবে-
আয়াত-“(হে নবী) আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি”  (অনুবাদ- “করিনি কি মহীয়ান মহিমা-বিথার?”  আয়াত-“(হে নবী) আপনার পালনকর্তা অতিসত্বর আপনাকে এমন দান করবেন, অতপর আপনি তাতে সন্তুষ্ট হবেন।’   অনুবাদ- “অচিরাৎ তব প্রভু দানিবেন, (সম্পদ) খুশী হইবে যাতে।”
বায়রনের যেমন গ্রীসের প্রতি হৃদয়ের একটা টান ছিল নজরুলের ছিল তেমনি “জাজিরাতুল আরব” এর প্রতি। এই আকর্ষণের কারণ যে ইসলাম ধর্মের প্রচারক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মভুমি তাতে সন্দেহ নেই। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি নজরুলের সীমাহীন অনুরাগ প্রদর্শন। ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় নজরুল এই মহামানবের প্রতি তাঁর অনুরাগ প্রথম প্রদর্শন করেন। এ কবিতায় তিনি বললেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদক্ষতম কান্ডারী, সুতরাং যাঁরা ইসলাম-তরণীর আরোহী, তাদের শত ঝড়-ঝঞ্ঝায় কোন বিপদের আশঙ্কা নেই। সমস্যা-সঙ্কুল এই পৃথিবীর তমসাকীর্ণ সময় ততক্ষণ নির্ভয়ে পাড়ি দিতে পারবে যতক্ষণ তারা হযরতের নির্দেশিত পথে চলবে।
মরুভাস্কর কাব্যগ্রন্থ ঃ
১৯৩০ খ্রীস্টাব্দের দিকে নজরুল যখন ইসলামী গান লিখতে শুরু করেন, তখন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর প্রশস্তিমূলক নাত (হযরত মুহাম্মদ দ. এর শানে রচিত কবিতা বা পদ) রচনার সময় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে নজরুল একটি কাব্যগ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় নজরুল এই কাব্যটি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেন নি। নবীর জীবনী বর্ণনামূলক এই দীর্ঘ প্রবন্ধ কাব্যের ১৭টি পরিচ্ছেদ কবি সম্পন্ন করেন, কিন্তু ১৮তম পরিচ্ছেদটি তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেন নি। “সাম্যবাদী” নামে এই পরিচ্ছেদের মাত্র ষোলটি পংক্তি রচিত হয়েছিল। নজরুলের আকস্মিক রোগাক্রান্ত এবং নিশ্চল হওয়ার দরুণ “মরু-ভাস্কর” অসমাপ্ত থেকে যায়। মরুভাস্কর গ্রন্থের ভুমিকায় কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা বলেন ঃ
“বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর জীবনী নিয়ে একখানী বৃহৎ কাব্যগ্রন্থ রচনার  কথা তিনি প্রায়ই বলতেন।”
কবি এ কাব্যগ্রন্থে নবীজী (দ.)’র বাল্যকালের প্রায় পুরো সময়টাকেই সুচারুরুপে এক কাব্যিক অলংকার দিয়ে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বনবী (দ.) কে শিশু অবস্থায় যখন মা ‘আমিনা’ বাবা আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যান। ফিরে আসার সময় পথিমধ্যে মা ‘আমিনার’ ইন্তিকালের হৃদয় বিদারক কাহিনী তুলে ধরেন এভাবে-
“কিছু দূর আসি’ পথ-মঞ্জিলে আমিনা কয়-
বুকে বড় ব্যথা, আহমদ, বুঝি হ’ল সময়
তোরে একলাটি ফেলিয়া যাবার! চাঁদ আমার,
কাদিসনে তুই, রহিল যে রহমত খোদার!”
আমরা দেখি যে, কবি নজরুল রাসূল (দ.) এর শিশুবেলার দুঃখে দুঃখিত ও ব্যথিত হয়েছেন এবং কবি তার বিভিন্ন কবিতায় এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কবির হৃদয়ে ছিল শিশু এতিম নবীর প্রতি এক অকৃত্তিম আবেগ আর ভালোবাসা। কবি উক্ত কবিতায় লিখেন-
“সব শোকে দিবে শান্তি যে- শৈশব তাহার
কেন এত শোক-দুঃখময়?”
অর্থাৎ যিনি এসেছেন পুরো বিশ্বজাহানের সকলের দুঃখ ঘুচাবার তরে আর তিনিই কিনা এত দুঃখ, ব্যাথা নিয়ে শৈশব পার করেছেন। এ সৃষ্টিকর্তার এক অপার মহিমার লীলাখেলা, যেন এক প্রেম খেলা। বন্ধুর সাথে বন্ধুর, হাবিবের সাথে মাহবুবের, প্রেমাস্পদের সাথে প্রেমিকের। যা বুঝবার ক্ষমতা হয়তো কেবল চক্ষুস্মান প্রিয় প্রেমিক বান্দারাই রাখেন।
আরব সূর্য ঃ
কাজী নজরুল দয়াল নবীজী (দ.) কে আরবের উদিত সূর্য বলে উল্লেখ করে তাঁর গুণগান গেয়েছেন। সূর্য যেমনি করে সমস্ত জগতকে আলো দেয় তেমনি রাসূল (দ.) সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে কল্যাণ ও রহমতের এক ঐশী আলো নিয়ে এসেছেন। কবির রচনায় এসেছে ঃ
জেগে ওঠ তুই রে ভোরের পাখী, নিশি প্রভাতের কবি !
লোহিত সাগরে সিনান করিয়া উদিল আরব-রবি।
তিনি আরো বলেন ঃ
নহে আরবের, নহে এশিয়ার, বিশ্বে সে একদিন,
ধূলির ধরার জ্যোতিতে হ’ল গো বেহেশত জ্যোতিহীন !
কবি তাঁর অন্য কাব্যগ্রন্থে লিখেন ঃ
“উঠেছিল রবি আমাদের নবী, সে মহা-সৌরলোকে,
উমর, একাকী তুমি পেয়েছিলে সে আলো তোমার চোখে!”
দয়াল নবীর আগমনী সংবাদ ঃ
আরবী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে যে, “মান আহাব্বা সায়আন আকছারা জিকরুহু” অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন কিছু ভালবাসে সে সব সময় শুধু ঐ বিষয় নিয়েই কথা বলে। আমরা দেখতে পাই যে কবি নজরুল তাঁর অসংখ্য লিখনীতে দয়াল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে বিভিন্নভাবে প্রশংসায় মেতে উঠেছেন। তাঁর আগমনের কথা বলেছেন, কখনো আবার এতিম বালক নবীজীর করূণ কাহিনী বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো তাঁর অনুপম চরিত্রের জয়গান গেয়েছেন। কবি যেন নবীজীর আগমনে সারা দুনিয়ায় খুশির পয়গাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কবির ভাষায়-
১.    “ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়।
২.    “আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্-পাকে তাই উঠেছে শোর।”
৩.    “তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
এধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।
‘মুহাম্মদ’ মোবারক নামের প্রশংসা ঃ
কবি নজরুল বিশ্বনবী (দ.) এর নামকরণের ইতিহাসও মরু-ভাস্কর কবিতায় তুলে ধরেছেন। রাসূল পাক (দ.) এর নাম রেখেছেন তাঁর দাদা তৎকালীন মক্কার কুরাইশ দলপতি আব্দুল মুত্তালিব। তিনি তা এভাবে বর্ণনা করেন যে-
“কহিল মুত্তালিব বুকে চাপি’ নিখিলের সম্পদ-
‘নয়নাভিরাম! এ শিশুর নাম রাখিনু ‘মোহাম্মদ’।”
নজরুল তাঁর কবিতায় রাসূল (দ.) এর নাম মুবারকের প্রশংসায় মেতে উঠেছেন। এ যেন এক সত্য প্রেমিক, যে প্রমিক তার প্রেমাস্পদের সবকিছু নিয়েই বলতে চাই। প্রেমাস্পদের সবকিছুই নিয়েই যেন তার বলতে হবে, নতুবা প্রেমিক মনের পরিপূর্ণ তৃপ্তি হয় না। কবি বলেন ঃ
গুঞ্জরি ওঠে বিশ্ব-মধুপ- “আসিল মোহাম্মদ!”
অভিনব নাম শুনিল রে- ধরা সেদিন- “মোহাম্মদ!”
এতদিন পরে এল ধরার- “প্রশংসিত ও প্রেমাস্পদ!”
কবি যেন এই ‘মুহাম্মদ’ নামটির প্রেমি পড়ে গেছেন। এখন শুধু এই নামটি জপাই কবি হৃদয়ের প্রশান্তি। তিনি বলেন-
“নাম মোহম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল
যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আসমানে খায় দোল।”
(নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, সম্পাদনা- রশিদুন নবী, প্রকাশনা- নজরুল ইন্সটিটিউট, পৃষ্ঠা-১৭১)
“মোহাম্মদ নাম যত জপি, তত মধুর লাগে
নামে এত মধু থাকে, কে জানিত আগে।”
(নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, রশিদুন নবী কর্তৃক সম্পাদিত, নজরুল ইন্সটিটিউট, ২০১৪ খ্রি., পৃষ্ঠা-১৭৩)
কবি তাঁর “অনাগত” কবিতায় আরো বলেন ঃ
“মোহাম্মদ এ, সুন্দর এ, নিখিল- প্রশংসিত,
ইহার কন্ঠে আমার বাণী ও আদেশ হইবে গীত।”
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (দ.) এর আগমনে ধন্য হয়েছিল মক্কা, মদিনা, আরব, এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্ব। কেননা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন মাজীদে ইরশাদ ফরমান-
“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত সরুপ প্রেরণ করেছি”  কবি বলেন ঃ
“ধন্য মক্কা, ধন্য আরব, ধন্য এশিয়া পুণ্য দেশ,
তোমাতে আসিল প্রথম নবী গো, তোমাতে আসিল নবীর শেষ।”
নবীজী (দ.) কে আল্লাহ পাক দুনিয়ার বুকে পাঠিয়েছেন সকল প্রকার ভেদাভেদ, হানাহানি-মারামারি ভুলিয়ে মানুষের মাঝে প্রেম-প্রীতি আর ভালোবাসা কায়েম করার জন্য। তিনি এই ধরায় এসে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের এক বর্বর যুগের মানুষদের তৈরি করলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সোনার মানুষ। কবি তাই সেই তরুণ নবীর জয়গান গেয়ে বলেন-
“দেখিতে দেখিতে তরুণ নবীর সাধনা-সেবায়
শত্রু মিত্র সকলে গলিল অজানা মায়ায়।”
“মোহাম্মদের প্রভাবে সকলে হইল রাজী,
সত্যের নামে চলিবে না আর ফেরেব-বাজী !”
মক্কার অধিবাসীরা মহনবী (দ.) কে অসম্ভব রকমের সত্যবাদী বালক হিসেবে জানতো। তারা মনে করতো মুহাম্মদের নিকট যা রাখা হবে তাই আমানত এবং নিরাপদ। সে কখনো মিথ্যা বলেনা। তাই তারা উনার নাম দিয়েছিল “আল-আমিন” অর্থাৎ বিশ্বাসী। কবি নজরুলও এ বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন-
“ক্রমে ক্রমে সব কোরেশ জানিল- মোহাম্মদ আমীন
করে না কো পূজা কা’বার ভূতেরে ভাবিয়া তাদেরে হীন।”
আল্লাহর সাথে নবীজীর উল্লেখ ঃ
কবি নজরুল তাঁর লেখার অনেক জায়গায় যেখানে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রশংসা করেছেন সেখানে নবীজী (দ.) এর গুণগাণ গেয়েছেন। যেমনিকরে কুরআন মাজীদের অসংখ্য আয়াতের মাঝে আমরা এটা লক্ষ্য করি যে, আল্লাহর নামের সাথে তাঁর প্রিয় হাবিব নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র নাম উল্লেখ আছে। কুরআনের ভাষায়-
১.    “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর অনুসরণ কর ও (তাঁর) রাসূলের অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা নেতৃত্ব দিবেন।
২.    “(হে রাসূল) আপনি বলুন যে, তোমরা যদি আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তাহলে আমার আনুগত্য কর, এতে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন”
কবি এই সমস্ত আয়াতের অনুকুলে কাব্যিক আকারে তাঁর ভাব প্রকাশ করেন।
১.    “খোদারে আমরা করি গো সেজদা, রুসূলে করি সালাম,
ওরাঁ ঊর্ধ্বের, পবিত্র হয়ে নিই তাঁহাদের নাম,
২.    আল্লাহ রসূল বোল্ রে মন আল্লাহ রসূল বোল।
দিনে দিনে দিন গেল তোর দুনিয়াদারি ভোল॥
রোজ কেয়ামতের নিয়ামত এই আল্লাহ-রসূল বাণী
তোর দিল দরিয়ায় আল্লাহ-রসূল জপের লহর তোল ॥
৩.    মোহাম্মদ মোস্তফা নামের (ও ভাই) গুণের রশি ধরি
খোদার রাহে সপে দেওয়া ডুববে না মোর তরী ॥
আল্লাকে যে পাইতে চায় হজরতকে ভালবেসে
আরশ কুরসি লওহ কালাম, না চাহিতেই পেয়েছে সে।
রসূল নামের রশি ধ’রে যেতে হবে খোদার ঘরে,
৪.    বক্ষে আমার কা’বার ছবি চক্ষে মোহাম্মদ রসুল।
নবী (দ.) এর প্রতি কবির আকুতি ঃ
কবি তার কবিতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কখনো তার নয়ন-মণি, কখনো গলার মালা, আবার কখনো চোখের অশ্রুর সাথে তুলনা করে কবি মনের আকুল কাকুতি-মিনতি প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই তার সবকিছু। এমনকি কবি মানবজাতির বহুল আকাক্সিক্ষত বেহেশতের আশাও ছেড়ে দিয়েছেন যদি পান সেই মহান প্রেমাস্পদ নবী (দ.)কে। যেমন কবির ভাষায়-
মোহাম্মদ মোর নয়ন-মণি মোহাম্মদ নাম জপমালা।
মোহাম্মদ নাম শিরে ধরি, মোহাম্মদ নাম গলায় পরি,
মোহাম্মদ মোর অশ্রু-চোখের ব্যথার সাথি শান্তি শোকের,
চাইনে বেহেশত্ যদি ও নাম জপ্তে সদা পাই নিরালা॥
একত্মবাদের দিশারী ঃ
কবি তাঁর জীবনে একত্মবাদের দিশারী হিসেবেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একমাত্র কান্ডারী বলে স্বীকার করেছেন। আমরা তাঁর কবিতায় ও গানে এই বিষয়টির স্পষ্ট উল্লেখ দেখতে পায়। যেমন- “তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।”  কবি পরম সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত ও দয়া প্রাপ্তির মাধ্যমও মনে করেছেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। কবি বলেন- “খোদার রহম চাহ যদি নবীজীরে ধর।”
পথ-প্রদর্শক কান্ডারী ঃ
কবি মনে করেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ বেহেশতের সঠিক পথ দেখাতে পারবে না। একমাত্র সহজ-সরল ও সত্যের পথ মানবজাতিকে দেখানোর জন্যই যেন তিনি পরম সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এ ধরাধামে আগমন করেছেন। তিনি বলেন- “ইয়া মোহাম্মদ, বেহেশত হতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখাও।”   পৃথিবীতে মহান আল্লাহর ঘর বলতে মক্কা নগরীর পবিত্র কাবা শরীফকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর হজ্জ ও হজ্জের মৌসুম ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও সমগ্র পৃথিবী থেকে দলে দলে মুসলমানরা এই ঘর তাওয়াফসহ পবিত্র জায়গাটি কেন্দ্র করে পূণ্য হাসিলের নিমিত্তে ছুটে আসে। জীবনের একটি পরম আকাক্সক্ষা থাকে কাবার পথে যাওয়ার। কবির মনেও ছিল এইরকম এক সুপ্ত বাসনা। আর তিনি প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছেই প্রকাশ করলেন তাঁর এই গহীন ইচ্ছা। তিনি বলেন-“ইয়া রাসুলুল্লাহ! মোরে রাহ্ দেখাও সেই কাবার।”
শ্রেষ্ঠ নবীর জয়গান ঃ
কবি সমগ্র সৃষ্টিজগতে প্রিয়তম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। তিনি মনে করেন তাঁর মতো বিশ্বে দ্বিতীয় মর্যাদাবান ব্যাক্তিত্বের অধিকারী আর কেউ নেই। তিনি বলেন আকাশে সবগুলি তারার মাঝে সূর্য যেমন, সমস্ত নবীর মাঝে আমার নবী তেমন। কবির কাব্যিক ভাষায়-
১.    “নবীর মাঝে রবির সম আমার মোহাম্মদ রসুল,
খোদার হাবিব দীনের নকিব বিশ্বে নাই যার সমতুল।”
২.    “বাদশারও বাদশাহ্ নবীদের রাজা তিনি।”

The Mujaddid of the Fifteenth Century

The Mujaddid of the Fifteenth Century

Mohammad Feroz Khan*

 

Mujaddid means reformer, reviver and protector from all evil deeds. In every century at the beginning, Allah Subhanahu Ta’la sends mujaddid for the nation for the sake of His devotee to protect them from all kinds of evils and superstitions. There are many mujaddid-e Ahle Sunnat who took important contribution on Islam by performing or reforming the quiet sunnah with the help of the Quran, Sunnah, Ijma, Kias etc. to remove from the society all kinds of bad influences and revive the Sunnat-e Rassol Sallallahu Alaihi wasallam. In this regards the passage will describe about the contribution of the mujaddid of fifteenth century.

In Hadith Sharif Rasool-e pak Sallallahu Alaihi Wasallam says that in every century Allah Subhanahu Ta’la sends a mujaddid to reform the sunnat-e Rasool Sallallahu Alaihi Wasallam which is almost lifeless. He appears as a Mujaddid and a Gawse Jaman at a time who creates new activities for the welfare of Deen and Islam. He will revive the Deen through reformation.

Sayyiduna Abu-Hurayrah Radi ALLAHu Anho narrates that Sayyiduna Rasoolullah Sallallaho Alaihi wa Sallam said:

ان الله تعالى يبعث لهذه الامة على رأس كلّ مائة سنة من يجدد لها دينها

Verily Allah will send at the beginning of every century such a person for this Ummah who will revive and restore their religion (Deen).

If we analyze the life of Hazratul Allama Rahnuma-e Shariat wa Tariqat Hadi-e Deen wa Millat Awlad-e Rasool Murshid-e Barhaque Alhaj Shahsufi Syed Muhammad Tayyab Shah Rahmatuallahi Alaihi, we will realize and rocognise that Huzur Qibla is the mujaddid of the fifteenth century without any doubt. He was simultaneously a Gawse Jaman and a Mujaddid as a beloved vicegerent of Allah. Hazratul Allama  Alhaj Shahsufi Syed Muhammad Tayyab Shah Rahmatuallahi Alaihi was born on 1336 Hizri. From childhood there was some signs in Huzur Qibla that Huzur Qibla was the beloved of Allah Subhanahu Ta’la. Huzur Qibla was the great model of Huzur Karim Sallallahu Alaihi Wasallam. He was one of the greatest representatives of Shariat and Tariqat.

In practising Tariqat he was the follower of Quaderia Tariqa. Spreading the Quaderia Tariqa Huzur Qibla took great contribution to raise the greatness and superiority of this Tariqa. Quaderia Silsila is available not only in Arab country but also in the Asia Subcontinent by the great activities of Huzur Qibla Rahmatulla Alaihi. Huzur Qibla was the “Madarjat Awlia” means the qualities of awlia was appeared from the childhood when Huzur Qibla was in a tender age. In the divine touch of Huzur Qibla the garden of Shariat has bloomed and then widen the field of Tariqat. Huzur Qibla was become a worthy Alim-e Deen by the supervision of Huzur Qibla’s father and Pir-Murshid Hazratul Allama Hafiz Qari Alhaj Syed Ahmad Shah Sirikoti Rahmatullahi Alaihi. Huzur Qibla dedicated himself to spread the Dinee knowledge to the pathless and confounded people. Huzur Qibla was the teacher and Principal of Jamia Rahmania Islamia Madrasah which was established by Khwaja Abdur Rahman Chowrabi Rahmatullahi Alaihi. After that he was selected as a ‘Chief Khalifa’ of “Silsila-e Alia Quaderia” in 1958. Huzur Qibla converted confounded Muslims to a Sunni-Allah fearing Muslim in Bangladesh, Yangon and many other places where Huzur Qibla has gone and also spread the Quaderia Silsila by performing Bayat.

Launching Gawsia Committee Bangladesh: The great foremost work of Huzur Qibla is establishing Gawsia Committee Bangladesh in 1986. By launching this unpolitical organization, Huzur Qibla has made a bridge between the people and religious work. People from all kinds, participating themselves in religious work by learning shariat and Tariqat. Through Gawsia Committee, people enlighten themselves with self-purification, salvation and righteousness. Infect Gawsia Committee is a revolution of social reformation. It is not only active in Bangladesh but also spreading its branches all over the world. The planning of organizing Gawsia Committee is 1. by taking Bayat and Sobok from kamil pir and murshid of silsila-e Alia Quaderia including this school of self-purification. 2. Becoming the member of Gawsia Committee they will take such a training so that they can become a bright person who free from all kinds of egoism, envy, allurement and pride. 3. Raising consciousness about the belief of sunniat and misconception of wrong sect, one will make himself as a perfect leader by giving necessary fundamental education and training. 4. Performing duties of sunniat and tariqat specially trustful to the regulation of Murshid-e Barhaque, madrasah and Anjuman. Through the teaching of fundamental regulation of Gawsia Committee anyone makes himself Insan-e-Kamil (Perfect Human). So the person who become the member of Gawsia Committee, we do not expect from him/her any evil deed. It is the great power of Awlia-e Keram who saves his follower from all kinds of wrongdoing and inhuman acts. By this way, Huzur Qibla has made the society become peaceful, prevail goodwill and free from jealousy.

Reforming Jashne Julus-e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam: Reviving or establishing one sunnah in the society by anyone, he will take the award of dignity as same as 100 martyrs.

The Prophet Sallallahu Alaihi Wasallam said, “For him who holds fast to my sunnah at the time of corruption of my ummah, is the reward of a hundred martyrs” (Bayhaqi).

Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam is such kind of sunnah revived by Alhaj Shahsufi Syed Muhammad Tayyab Shah Rahmatuallahi Alaihi. So we can undoubtedly say that Huzur Qibla is a Mujaddid of this century as well as fifteenth century. Huzur Qibla ordered to Anjuman-e-Rahmania Sunnia Alia to celebrate the Mawlid un Nabi Sallallahu Alaihi Wasallam or appearance/ arrival day in this earth of Huzur Pak Sallallahu Alaihi Wasallam in 1974. The chief khalifa of Huzur Qibla, Alhaj Nur Mohammad Al-Quaderi Rahmatullahi’s presiding, the first Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam was held in Chittagong in Bangladesh. After that Huzur Qibla presided the Jashne Julus in 1976. Eventually every year magnificent Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam is held everywhere in the country as well as all over the world.

Now Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam is the identification of sunniat. There was a period when  Anjuman-e-Rahmania Sunnia Alia first started Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam, so called different darbars and olamas stand against this sunnah by showing different logic. But Islam wants document. No one proved that Jashne Julus-e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam is against sunnah rather they accepted it as a Bidath-e Hasanah. Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam has been held as universally admitted and observed which is the reformation of Huzur Qibla Rahmatullahi Alaihi. It was held from 1976-1986 with the leadership of Huzur Qibla. Now Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam is a govt. holiday not only in Bangladesh but also in all Muslim country. Now at this time every sunni mashaek arranges ‘Jashne Julus’ by its own darbar and even they declare that they are the founder of Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam. On the other hand, many confounded theorists celebrated ‘Jashne Julus’ which has made this reformation universal. Today ‘Jashne Julus’ is included in Islamic Programme. The significant of ‘Jashne Julus’ is overwhelming. The situation of celebrating Jashne Julus- e Eid-e Miladunnabi Sallallahu Alaihi Wasallam was not the same when Huzur Qibla first declared to observe this day maintaining Quran and Sunnah.

Reviving Tariqa-e Quaderia: Tariqa-e Quaderia originated by Hazrat Abdul Quader Jilani Rahmatullahi Ta’la Alaihi is the main branch of Islami Spiritual world. Huzur Allama Alhaj Shahsufi Syed Muhammad Tayyab Shah Rahmatuallahi Alaihi was the most fortunate chief Khalifa and reformer of this Tariqa. This Tariqa has regained its life by his hand. The seed which was sown by Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti Rahmatullahi Alaihi, that turned into a big banyan tree with abundance of fruits and flowers by the hands of Huzur Qibla. In Quaderia Tariqa one of the reformation Huzur Qibla were newly brought in Khatam-e Gawsia Sharif, Gyaravi Sharif and Baravi Sharif. Established by Huzur Gawse Pak Radi Allahu Anhu this Khateme Gawsia Sharif and Gyaravi Sharif are  being celebrated today home to home, area to area in day-night. This religious programmes are occupied by the Huzur Qibla’s Holy Hand. Especially Huzur Qibla added various fascinating audible na’at-e rasool and Kasida sharif with this Khatam Sharif has made this programme more attractive.

Contribution in Deene Education: In spreading of Deen or Islam there is a great contribution of Huzur Qibla Rahmatullahi Ta’ala Alaihi. Huzur Qibla made a tour from North-West Frontier Province of Pakistan to Bangladesh only for 1 or 2 weeks in every year. It is not easy to say that within a short period of time Huzur Qibla established so many Madrasahs and Khaneka Sharif in this country. Today in Bangladesh influenced by Huzur Qibla there are almost 100 madrasahs running on with well restrained. From these madrasahs every year thousands of Alim-e deen (Taleeb-e Elam) is spreading in all sectors in all over the country as well as throughout the world. From these madrasahs, the student are engaged in not only spreading sunniat but also work as a doctor, engineer, architecture, judge, magistrate, barrister and so on. By finding the true way of Islam everybody is running into it to take the accurate taste of Islam. Jamia Ahmadia Sunnia Alia and Jamia Quaderia Tayebia Alia are the example of such kinds of Madrasah of those. These madrasah are contributing to make society peaceful, stable and collision free.

In the above discussion we can say that if Allah subhanahu Ta’la did not send Huzur Qibla Syed Muhammad Tayyab Shah Rahmatullahi Ta’la Alaihi in the world, the world would prevail darkness with batil or wrong sect specially in sub-continent. We are fortunate to become the follower of this great Pir and Murshid who is the mujaddid of the fifteenth century.

Reference

  1. Tarjuman-e Ahle Sunnat, (2013): Chittagong, Anjuman Press
  2. Gawsia Committee Bangladesh: What and Why, (2012): Chittagong, Anjuman Press

 

* Lecturer: (English) Qaderiya Tayeabia Kamil Madrasah.

Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu)

Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu)

Jain Uddin Ahmad*

 

Allah selected Islam for all kinds of people in the world. Allah Said, ‘Who investigates religion without Islam? Never taken this religion from him and he will damage in Akhirat’. Allah Ta’ala sent many prophets to preach the Islam age by age. After departure of our holy prophet Hazrat Muhammad (Sallallahu Alaihi Wa sallam) the continuation of coming prophets was ended. For this the great responsibility of preaching Islam was given on Sahaba’ e keram, Tabeyi, Tabe Tabeyi and Awlia-e keram. Before the holy departure of awlia- keram this Indian Sub-continent was sang in disappointed. So, some awlia- keram preached Islam or saving disappointed people. In the magnificent sea of awlia-e keram Hazrat Ahmad Shah Sirikoti was a bright pearl. He showed the right path of sunniat to the people of Bangladesh, Pakistan and Yangon. He saved the Muslim people from Batil sects by preaching Islam. If he didn’t come in Bangladesh, We would sink in disappointed.

Holy Brith: Kutubul Awlia, Baniye Jamea Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Rahmatullahi Alaihi) was born at Sirikot of Hazara district of north east frontier province of Pakistan in Hizri 1271/72, 1852 A.D. He was the 39th offspring of our holy prophet Hazrat Muhammad (Sallallahu Alaihi Wasallam). His father name was Syed Sadar Shah (Rahmatullahi Alaihi). He was the Awlad-e Rasul of Imam Hossain ( Radiallahu Ta’ala Anhu).

Educational life: He memorized the holy Quran in his childhood. After that, he acquired many knowledge in Quran, Hadith, Fiqh, Wassol-e Fiqh, Naho, Saraf, Mantiq, Akaid and Philosophy. He also acquired deep knowledge in Tafsir of the holy Quran and Hadith. He could not satisfied by this knowledge. So he went to the capital city, Delhi in India. He studied there in some Madrasahs. He studied higher class of those Madrasah. After that, he went to Africa continent which was very far from his homeland.

Character: From his boyhood, Hazrat Ahmad Shah Sirikoti (Rahmatullahi Alaihi) possessed a moral and pure character. He was self-reliant and kind hearted. He never showed temper with any person. Without this, he had not any kinds of bad habits like oppress, nepotism and malpractice. He conquered the hearts of people by his talking, behaviour and humanity. His main aim was to find satisfaction of Allah and His prophet (Sallallahu Alaihi Wasallam). If his character reflects to us, we shall be a native person.

Setting his holy feet in Chittagong: Awlia-e keram travels many places to preach Allah’s message and prophet Hazrat Muhammad (Sallallahu Alaihi Wasallam)’s Hadith. When a nation sinks into darkness, at that time, awlia-e keram goes there to show people the right path. Like this, the terrible time of people in Chittagong, the founder of the ‘Daily Azadi’ newspaper, Abdul khalek engineer requested Syed Ahmad Shah Sirikoti ( Radiallahu Ta’ala Anhu) to come in Chittagong. So, Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radiallahu Ta’ala Anhu) set his holy feets in the land of Chittagong in 1937 A.D. After setting his holy feet in Chittagong he removed all kinds of Batil sects. He established there Asia – known sunni religious educational institution Jamea Ahmadia Sunnia Alia, Chittagong. From this Madrasah every year exit many Alem-e Din. They serve a great service for sunniat. Hazrat Ahmad Shah Sirikoti gave great teaching of Shariat and Tarikat. He was well-known as many names in Chittagong. He was known as ‘Shimantopir’ in south Chittagong. Because his birth land was in the frontier province. But he was famous as ‘Peshwari Saheb’. Somewhere he was known as ‘Sirikoti Saheb’. In a word, he was a well-known person in all over the Chittagong.

Taking Bayat and gaining khilafat : He acquired extraordinary knowledge in many subjects of Shariat and Tariqat . But he could not think himself a perfect person. So, he searched murshid (guide) for earning Bateni (hidden) knowledge. Once his wife informed him, “There is a great saint named Abdur Rahman Chowravi (Radi allahu anhu)’’. So, Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Rahmatullahi Alaihi) went to Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi Allahu Anhu) to see him . When he looked him for a single moment, his heart leaps up with joy. Once Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu) requested Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi Allahu Anhu) to accept him as a Murid (disciple). Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi allahu anhu) accepted him as a Murid. After accepting him as a Murid he started to do difficult work for his Murshid’s satisfaction. He went to the high hills of Sirikot Sharif to collect fuel wood and he brought that through his head. He performed this work continually for 12 years. At first, Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi Allahu Anhu) didn’t talk anything for that work. At last, he forbade Hazrat Ahmad Shah Sirikoti (Radi allahu anhu) for that work. Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu) disliked to abandon from company of Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi Allahu Anhu). After few days, absence arose on his mind. So, he couldn’t do any work. After operation, this absence took nine months to be well. He showed his disciples the spot of absence and said, “This is my murshid given symbol” Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu) became a great saint by worshipping Allah and many other works. So Hazrat Abdur Rahman Chowravi (Radi allahu anhu) gave khilafat to his dearest murid Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Anhu)

The incident of Bashkhali and establish of Jameya madrsah: There was a famous Aleem-e Din who was lived at Bashkhali in Chittagong district, he realize the establishing of sunniyat at Bashkhali, there is need for Huzur kibla Hazrat Ahmad Shah Sirikoti (Radi allahu anhu). So he invited Huzur kibla at Bashkhali. The ceremony was started. He recited Innallaha wa malaiktahu yu salluna alan nabiyyi ya ayyuhallazina amanu sallau alaihi wa sallimu taslima. But no person send Darood sarif to Prophet sallallahu alaihi wa sallam. He become angry and he also upset. He realized that the people of Bashkhali were rounded by Batil sects. So, there was very, necessary to establish a sunni madrasah. Next morning, he called all of his discples and ordered them to search a place where situated a mosque and pond and that place was situated neither town nor in village. So, everyone started to search such a place. Many people proposed many lands. At last, Alhaj Nur Muhammad Al-quaderi (Rahmatullahi Alaihi) came with Huzur kibla in a place where now Jamia Madarasah is situated. No sooner had Huzur kibla seen the place then he smiled. He said that the smell of knowledge went out from that place. He also said that I must make there a Madrasah. Nur Muhammad Al-Quaderi (Rahmatullahi alaihi) arranged iron to build up Jamia Ahmadia Sunnia Alia Madrasah. From this Madrasah students are taking essential steps for saving sunniyat.

Holy Departure: Qutubul Awliya, Baniye jamia, Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radi Allahu Ta’la Anhu) passed away from this mortal earth on the 11th Jilqad (Thursday) in Hijri 1380 (1961) at the age of 109. Sher-e Bangla Allama Azizul Haque said that the departure of Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radiyallahu Tayala Anhu) like the death of the earth.

After all we can tell that Hazrat Syed Ahmad Shah Sirikoti (Radiyallahu Ta’la Anhu) was a great saint and famous pious. If we maintain the orders and forbid of Sirikoti Hujur (Radiyallahu Ta’la Anhu) we can become a right person of sunniyat and will able to wave the flag of sunniyat.

 

Reference:

  1. Baag-e Sirikoti
  2. Sunniyater poncho rotno
  3. Rahmatullil Alamin (2013)

 

* Student, (Class Nine) Qaderiya Tayeabia Kamil Madrasah.

জশনে জুলুস প্রবর্তনে আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ এর অবদান

জশনে জুলুস প্রবর্তনে আল্লামা তৈয়্যব শাহ্ এর অবদান

হাফেজ নূর মুহাম্মদ

 

প্রারম্ভিকা: মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভাগমনকে কেন্দ্র করে সমগ্র জগৎ সৃজন করেছেন। তাই আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া আদায় স¦রূপ অসংখ্য দরূদ ও সালামের নজরানা পেশ করছি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূরাণী দরবারে।

পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে যতগুলো নিয়ামত দান করেছেন, তন্মধ্যে “ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” হচ্ছে জগৎবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ একটি নিয়ামত। আর রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমনের দিন কেবল ঈমানদারদের জন্যই নয়, বরং সৃষ্টিজগতের সকলের জন্য আনন্দের ও রহমতের দিনও বটে। সুতরাং এ শ্রেষ্ঠ নিয়ামত প্রাপ্তিতে সেই নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য স্বয়ং আল্লাহ পাক কুরআনে মাজীদে নির্দেশ প্রদান করে বলছেন- قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

আর্থাৎ হে রাসুল ! আপনি বলুন আল্লাহর দয়া ও রহমতকে কেন্দ্র করে তারা যেন আনন্দ করে এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

এরই ফলশ্রুতিতে প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসে সারা বিশ্বের অগণিত নবী প্রেমিক মুসলমানগণ অত্যন্ত ভক্তি ও ভাব গাম্ভীর্যের সাথে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে আসছেন। তথাপি এটি একটি শরীয়ত সম্মত পূণ্যময় আমল; যা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

“ঈদে মিলাদুন্নবী” শব্দটি যৌগিক শব্দ। এটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। ১. ঈদ ২. মিলাদ ৩. নবী।

প্রথমত ‘ঈদ’ঃ ঈদ শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- আনন্দ, উৎসব, খুশি।

বিশ্ববিখ্যাত অভিধান প্রনেতা ইবনু মানযুর বলেন- “সমবেত হওয়ার প্রত্যেক দিনকে ঈদ বলা হয়”।

মুফতি আমীমুল ইহসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- “কোন মর্যাদাবান ব্যক্তিকে স্বরণের দিন বা সমবেত হওয়ার দিনকে ঈদের দিন বলা হয়”।

দ্বিতীয়ত ‘মিলাদ’ ঃ মিলাদ শব্দটি আরবী, যার শাব্দিক অর্থ- জন্মকাল, জন্মদিন। আরবী ভাষায় কারো জন্মদিন অর্থে ‘মাওলিদ’ বা ‘মওলুদ’ শব্দসমূহ ব্যবহার হয়ে থাকে।

তৃতীয়ত ‘নবী’ ঃ আরবীতে নবী শব্দটি ‘নাবা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে- গায়েব তথা অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানকারী। এখানে নবী বলতে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং “ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এর অর্থ হচ্ছে- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র আগমন উপলক্ষে আনন্দ উদ্যাপন করা।

জশনে জুলুস এর অর্থ: ফার্সিতে “জশন” শব্দের অর্থ- খুশি বা আনন্দ উদ্যাপন করা। আর “জুলুস” শব্দটি “জলসা” শব্দের বহুবচন; যার অর্থ বসা, উপবেশন, পদযাত্রা। সুতরাং ফার্সী “জশনে জুলুস” বিশেষ কোন উৎসব বা আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ইত্যাদিকেই বুঝায়।

ইসলামী সংস্কৃতি ও ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন :

বর্তমানে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নি:সন্দেহে সুন্দর ও রুচিপূর্ণ ইসলামী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। মিলাদুন্নবী জুলুস উদযাপনে যখন জমায়েত ও সমাবেশ করা হয়, শোভাযাত্রা ও পদযাত্রায় মুখরিত হয়, তখন তা বিশেষভাবে প্রভাবিত করে  নবী প্রেমিকের প্রেমের ঢেউকে। এটি আধুনিক মুসলিম সমাজে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামে পরিচিতি লাভ করে ।

সৃষ্টির উৎস, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, সৃষ্টির কেন্দ্র আলোর প্রথম উদ্ভাস ও সিরাজুম মুনিরা পৃথিবীতে আগমন দিবসই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা’র মূল উদ্দেশ্য বা উপলক্ষ। আর এ উপলক্ষ্যের চেয়ে সুন্দর, উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কোন উপলক্ষ নেই নিঃসন্দেহে।

এ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে কোথাও কোন অকল্যাণ ও অসুন্দরের নুন্যতম ইঙ্গিত নেই। সর্বস্তরের মুসলিম লোক এ মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহফিলের মাধ্যমে নবীর আদর্শ চর্চা ও অনুশীলন করার সুযোগ পায়। বর্তমানে পাশ্চাত্য, ভারতীয় ও বিজাতীয় সংস্কৃতি মুসলিম সমাজকে দারুনভাবে কলুষিত করছে। ইসলামী আদর্শের স্থলে স্থান করে নিয়েছে এসব কুরুচি ও অশ্লীল সংস্কৃতি। তবে এসব উপলক্ষ ও সংস্কৃতিতে কোন মুক্তি  ও নাজাতের গ্যারান্টি নেই। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা’র অনুপম ও অনন্য আদর্শই একমাত্র ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে। কেননা তার আদর্শ ও চরিত্রই সর্বোত্তম শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতার মূর্ত প্রতীক। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ ফরমান- لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ – অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

জশনে জুলুস প্রবর্তনে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যেব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহির অবদানঃ

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক শতাব্দীতেই এক বা একাধিক সংস্কারক অলী প্রেরণ করেন; যারা দিশেহারা মানব গোষ্ঠীকে দ¦ীনের সঠিক পথ ও মত প্রদর্শন সহ দ¦ীনি কল্যাণার্থে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী এমন সব সংস্কার গ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে উম্মতে মুহাম্মদী’র আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়।

নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দির শুরুতে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যিনি এ দ্বীনকে উম্মতের জন্য সংস্কার করেন।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞ ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় জানা যায়- ইসলামের প্রথম মুজাদ্দিদ হলেন হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এভাবে মুজাদ্দিদ এর ধারাবাহিকতায় ১৫ তম (পঞ্চদশ) স্থানে সমাসীন হয়েছেন আওলাদে রাসুল, গাউছে জামান আল্লামা সৈয়্যদ আহমাদ শাহ সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র একমাত্র সুযোগ্য আওলাদ গাউছে জামান আল্লামা হাফেজ কারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যেব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি তার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান সৈয়দ আহমদ শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি’র আদর্শে গড়ে উঠে কুরআন হাদীসের সঠিক রূপ রেখায় অনেক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়ে তাতে পূর্ন সফলতা অর্জন করেছেন। এসব সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম হল জশনে জুলুমে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

১৯৭৪ সালে স্বাধীনত্তোর কালে বাংলাদেশে তিনি তখনো তাশরীফ আনেননি। পাকিস্তানের সিরিকোট শরীফ থেকে চট্টগ্রামে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া কর্মকর্তাদের চিঠি মারফত নির্দেশ দিলেন ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে জশনে জুলুস এর আয়োজন করতে। উল্লেখ্য যে, এ চিঠিতে জশনে জুলুস কী এবং কিভাবে পালন করা হবে, এর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও জানিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭৪ ইংরেজী সালে বালুয়ার দীঘি পাড়ের খানকাহ এ কাদেরিয়া সৈয়্যেদিয়া তৈয়্যেবিয়া হতে আলহাজ নুর মোহাম্মদ সওদাগর আল-কাদেরী নেতৃত্বে সেদিন জুলুস চট্টগ্রাম শহর প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ময়দানে শেষ করে জমায়েত হয়ে এক বিশাল মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহফিল এর যে রূপ ধারণ করেছিল, তা চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে এক নতুন ঈমানী চেতনা সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরবর্তী পর্যায়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপিত হয়ে আসছে। আর জশনে জুলুস নামক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ধর্মীয় শোভাযাত্রার প্রবর্তন করেন- রহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, গাউছে যামান, মুর্শিদে বরহক, আওলাদে রাসূল আল্লামা হাফেজ কারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যেব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ।

পরিশেষে আমরা বুঝলাম, ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপনের সাথে জড়িত আছে মুসলিমদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। প্রতিবছর  ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপনের মাধ্যমে মুসলিম জাতি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা ও জীবন ব্যবস্থাকে নিজেদের কর্মজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। আর এ দিন বিশ্ব মুসলিমের জন্য নতুন করে আত্মিক পরিশুদ্ধির দিন। এ দিনে আমরা এ শপথ নেব যে- নামাজ পরিত্যাগ করব না এবং হালাল হারাম মেনে চলব। সর্বপরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আদর্শে নিজেদের জীবন গড়বো।

আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান ফাযেলে বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

“যিকরে মিলাদুন্নবী করতা রাহোঙ্গা উমর ভর,

জ্বলতা রাহো নজদীও জলনা তোমহারা কাম হ্যায়”।

অর্থ: জীবন ব্যাপী করব মোরা নবীজীর মিলাদ স্মরণ,

জ্বলতে থাক নজদী ওহে জ্বলেই হবে তোদের মরণ।

 

আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর ভাষায়-

“ব- মুস্তফা, ব-রসা খেশ রা কে হাঁসা দ্বীন উস্ত

আগর বা উ না রাশিদি তামাম বু- লাহাবী আন্ত”।

অর্থাৎ “তুমি মোস্তফার চরণে নিজেকে সম্পূর্নভাবে বিলীন করে দাও। যদি তা না পার, তবে তুমি আর আবু লাহাবের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই”।

সর্বোপরি রাসূল প্রেমে অবগাহন করে সাচ্চা মু’মিন মুসলমানে পরিণত হওয়ার দীপ্ত শপথ নিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র কাজে নিজেকে সমর্পন করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি। আমিন বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালিন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আল-কুরআনুল কারীম।

২. ইবনু মানযুর: লিসানুল আরাব; বৈরুত, প্রথম সংস্করন।

৩. মুফতী আমীমুুল ইহসান: কাওয়ায়িদুল ফিকহ; আশরাফিয়া বুক ডিপো, ভারত, প্রথম সংস্করণ-১৩৮১ হি:।

৪. আবু দাউদ সুলাইমান ইবনু আশ-আছ সিজিসতানী: আস-সুনান শরীফ।

আধ্যাত্মিক জগতের মহান স¤্রাট খাজা আব্দুর রহমান চেীহরভী

আধ্যাত্মিক জগতের মহান স¤্রাট খাজা আব্দুর রহমান চেীহরভী

খন্দকার মোহাম্মদ আল ইমরান

 

বিদগ্ধ জনে জানে-

“চৌহর” নামে ভূ-খন্ডখানি, প্রথিবীর কোনখানে?

সেখানে জন্ম কোন শুভক্ষণে এক মহা সাধকের,

রাজত্বতার হৃদে হৃদে সব নবীপ্রেম বাহকের।

কবি হাফিজ আনিসুজ্জামান’র কবিতার উপরের পংক্তিমালা পড়েই কৌতুহল সৃষ্টি হয় ‘চৌহর’ নামের সেই পবিত্র ভূ-খন্ডখানি কোথায়? জানার জন্যে। আর সেখানে জন্ম নেয়া দিব্যজ্ঞানী মহা সাধক- কে? যাঁর হৃদয়ে হৃদয়ে সব নবী প্রেম বাহকের রাজত্ব।

‘চৌহর’ ভূ-খন্ড চেনর জন্যে কবি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। শর্তটা হচ্ছে- বিদগ্ধ জ্ঞানী হতে হবে নয় তো সম্ভব নয়। আসলেই সত্যি জ্ঞানী-সাধক, মহাপুরুষ এদের চিনতে জ্ঞানেরই প্রয়োজন। স্থানটা চিনতে প্রথমে সেই ‘চৌহর’-এ জন্ম নেয়া মহাসাধককে চিনতে হবে। কারণ এই স্থানটাতো পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের এবোটাবাদ জেলার অঁজপাড়া গ্রাম। “ইন্নাল খারাবা ইয়াকূনু মাআল্লাহি ইমারাতান ওয়া বুসতানা” অনাবাদী প্রত্যেক জমিই আল্লার স্মরণে আবাদ হয়, ফুলে-ফলে, সবুজ-শ্যামল বাগিচায় রূপ নেয়। দিব্য জ্ঞানী আল্লার এই মহান অলি এই ভূমিতে জন্ম নিয়েছেন বলেই আর এর এতো নাম দাম-এতো সম্মান ‘চৌহর’ আর বলা যায় না, বলতে হয় ‘চৌহর শরীফ’। কবির দার্শনিক যুক্তি খুব সুন্দরই হয়েছে, সেই বিদগ্ধজনেই জানবে ‘চৌহর’ পবিত্র ভূমির মর্যাদা যে, বিদগ্ধজন চিনবে সেই মহাপুরুষকে, সেই মহাসাধক কে? কি তাঁর পরিচয়? কেন মানুষ আজো তাঁকে ভক্তিভরে স্মরণ করে, কবিরা থাঁর শানে কবিতা তাঁর শানে কবিতা লিখে, সাহিত্যিকরা তাঁকে নিয়ে রচনা করে দীর্ঘ প্রবন্ধ।  তবুও শেষ হয় না। তাঁর যথাযোদ্য স্তÍতি হয় না; হওয়ার কথাও নয়, তিনি অসাধারণ-অনন্য সাধারণ অবাক হওয়ার কথা, মক্তবে শুধু কোরআন শরীফটা হিফজ করেছে। আর কোনো মাদ্রাসায় স্কুলে পরেড়ন নি, অজ্ঞরজ্ঞান শিখেন নি লিখার অনুশীলন করেন নি। দুনিয়ার কোন পূঁথিগত বিদ্যা না পড়ে, কোন উস্তাদের কাছে না গিয়ে তিনি যে অসাধারণ এক গ্রন্থ রচনা করেছে- যার লিখন শৈলী, শব্দ চয়ন ও বর্ণনার ধারাবাহিকতা, তদুপরি পবিত্র কোরআন ও হাদীসের নিগুঢ় তথ্য ও রহস্যবলীর বর্ণনা, ভাব ও বক্তব্য যা অসাধারণ জ্ঞানী এবং তথ্য জ্ঞানী পন্তিতদেরকেও হতভম্ব করে তোলে। এ কোন জ্ঞান? যা প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডিতে না গিয়েও অজর্ন করা যায়? এ জ্ঞান সাধারণ জ্ঞান।এ জ্ঞান খোদা প্রদত্ত ঐশী জ্ঞান। যাকে বলে “ইল্মে লাদুনী।” এ জ্ঞান যার তার ভাগ্যে জোটে না। এ জ্ঞানের জন্য সাধনা করতে হয়। কষ্ট করতে হয়, আর আল্লাহ্ ও রাসূলের পথে নিরবিচ্ছন্ন সাধনা করলে আল্লাহ্ ও তার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়ে, তাঁর জন্য আদি-অন্ত সকল প্রকার জ্ঞানের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। সে রকম আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ কে সন্তুষ্ট করে তিনি সেই অসাধারণ জ্ঞানভা-ারের মালিক হয়েছেন বলেই তাঁকে বলা হয় ‘মা’আরেফে উলূমে লাদুন্নিয়া’র প্র¯্রবণ।

এ মহান ব্যক্তিত্ব ‘মা’আরেফে লাদুন্নী’র প্রস্্রবণ, উলুমে ইলাহীর ধনভান্ডার, শরীয়তের অসাধারণ জ্ঞানী, তরীকতের মুর্শিদ, হাক্বীকতের গুপ্ত রহস্যাবলীর অন্তরদ্রষ্টা, খলীফা-ই-শাহে জিলান, খাজায়ে খাজেগান হযরত খাজা আব্দুর রহমান চৌহ্রভী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের এবোটাবাদ জেলার পবিত্র ভূমি ‘চৌহর’ শরীফে হিজরী ১২৬২ মোতাবেক ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে এক প্রসিদ্ধ বুযুর্গ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। হযরত চৌহ্রভী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি ৮ বয়সেই বছর পিতৃ¯েœহ হতে বঞ্চিত হন। ছোটবেলায়  পবিত্র কুরআন হিফ্জ করেন। পিতার ইন্তেকালের পর কিশোর চৌহ্রভী নফ্স শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদের প্রথম সোপান হিসেবে ক্রমাগত চল্লিশ দিন আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে শুরু করলেন কঠোর রিয়াযত। এ রকম, কঠোর কঠিন কষ্টসাধ্য অনুশীলন (রিয়াযত) দ্বারা শারীরিক ও চারিত্র্যিক যাবতীয় অন্ধকার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিশ্চিহ্ন করে তিনি রূহানী শক্তি অর্জন করতে নিজেকে সক্ষম করে তুলেন।

খাজা চৌহ্রভী রাহ্মুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন মাতৃগর্ভের অলি। পবিত্র কুরআন হিফ্জ করা ছাড়া বাকী তাফসীর, হাদীস, ফিক্বহ ও উসুল ইত্যাদির শিক্ষা প্রচলিত নিয়ম মতে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষকের কাছে গিয়ে অর্জন করেন নি। তাঁর বুযুর্গ পিতা হযরত খাজা ফক্বীর মুহাম্মদ খিজরী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও কৃপাদৃষ্টিতে ছোটবেলা হতেই হযরত চৌহ্রভী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি বেলায়তের মক্বাম (মর্যাদা) অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত মুর্শদের হাতে বায়’আত গ্রহণের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিকতায় আরো উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হন। ফলে কুরআন, হাদীস, ফিক্বহ ও ফতোয়ার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন না করেও তিনি আধ্যাতিœক জ্ঞানবলে এসব বিদ্যায় পরিপূর্ণ পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর রচিত ঐ মহান গ্রন্থই তাঁর জাহেরী ও বাতেনী জ্ঞানের ধারক হওয়ার উজ্জ্বল প্রমাণ বহন করে। একটি গ্রন্থ রচনা করেই তিনি আর অমর-অক্ষয়। যে গ্রন্থের নাম ‘মোহায়্যিরুল উকুল ফি-বয়ানে আওসাফি আক্বলিল উকুল মজমূ’আহ্ সালাওয়াতির রাসূল।’

এ দরূদ শরীফের সুবিশাল ত্রিশ পারা আল্ মুসাম্মাবিহী স্মবলিত কিতাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র গুণগত বৈশিষ্ট্য ও অপূর্ব সৌন্দর্যের বর্ণনা। এমন শৈল্পিক বাচনভঙ্গি ও অভিনব ঢংয়ে বর্ণনা করা হয়েছে যা অধ্যয়নে বড় বড় আলিম ও পরিপক্ব সূফীতত্ত্ববিদগণও একেবারেই বিস্ময়ে হতবাক। এই একখানি গ্রন্থই এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রমাণ বহন করে। কারণ এই বিশাল গ্রন্থটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র শানে রচিত সর্ববৃহৎ দরূদ শরীফ বলার সাথে সাথে এ কিতাবকে তাফসীর, হাদীস, ফিক্বহ, উসুল, মানতেক, বালাগাত, আকাঈদ, ইতিহাস, সূফীতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব, শরীয়ত, ত্বরীক্বত দর্শন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ তথা ‘ইনসাইক্লোপিডিয়া’ বলেও গবেষকগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

হযরত চৌহ্রভী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন একনিষ্ট সুন্নত-ই-নববী সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র অনুসারী। তিনি নিজের আধ্যত্মিক অবস্থানকে লোকজন হতে সর্বদা গোপন রাখতেন। তাঁর চরিত্রে বিনয়, নম্রতা, সহনশীলতা ও ধৈর্য এবং গরীব-মিসকিনদের প্রতি, দয়া ভালবাসা প্রভৃতি গুণ ফুটে উঠে। তাঁর চরিত্রে ছিলো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সুন্দরতম চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। উঠা-বসা, খানা-পিনা, পোষাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি সকল বিষয়ে সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র অনুসরণ অনুকরণের প্রতি তাঁর সজাগ দৃষ্টি ছিলো। জীবন অবধি শরীয়ত ত্বরীক্বত মাযহাব মিল্লাতের খিদমত করেছেন নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠা করেছেন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান “হরিপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা।” মাযহাব মিল্লাতের খিদমতের জন্য গড়ে তুলেছেন আমাদের জামেয়ার’র প্রতিষ্ঠাতা সৈয়্যদুল আউলিয়া শাহ্ সৈয়্যদ আহ্মদ সিরিকোটী রাহ্মাতুল্লাহি আলাইহি’র মতো শরীয়ত ত্বরীক্বতের বিজ্ঞ আলেম-ওলামা, ভক্ত-অনুরক্ত যোগ্য খলিফাবৃন্দ। যাঁদের মাধ্যমে এ মিশন জারী থাকবে ক্বেয়ামত পর্যন্ত। তাঁর রূহানী ফয়েজ বরকত লাভে ধন্য হয়ে দুনিয়ার মানুষ তাঁকে স্মরণ করবে চিরদিন। আর ভক্তিভরে জানাবে লক্ষ কোটি শ্রদ্ধা, সম্মান আর সালাম।

“খাজায়ে খাজেগান খাজা আব্দুর রহমান

উছ্ নগীনে বেলায়ত পে লাখোঁ সালাম”।

জানাযার পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দো’আ করার বিধান

জানাযার পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দো’আ করার বিধান

মুহাম্মদ বুরহান উদ্দিন রাব্বানী

 

জানাযার নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মৃত ব্যক্তির জন্য দো’আ করা জায়েজঃ

দলীল নং- ০১: পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, فاذا فرغت فانصب والى ربك فارغب – আর যখন আপনি অবসর হবেন, পরিশ্রম করুন এবং আপনার প্রতিপালকের দিকে মনোনিবেশ করুন।  এ আয়াতের তাফসীরে আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) বলেন, عن قتادة والضحاك ومقاتل فى قوله تعالى- (فاذا فرغت فانصب) اى اذا فرغت من الصلاة المكتوبة فانصب الى ربك فى الدعاء و ارغب اليه فى المسآلة يعطيك – অর্থাৎ হযরত কাতাদাহ, দাহ’হাক ও মাকাতিল (রাঃ) আনহুম আল্লাহ পাকের এই বানী সম্পর্কে বলেন ((فاذا فرغت فانصب এর মর্মার্থ হল আপনি যখন ফরয সালাত শেষ করবেন, তখন নিজেকে দো’আ করার জন্য নিয়োজিত করে নেবেন এবং প্রার্থনা করার জন্য তারই প্রতি মনোনিবেশ করবেন। তিনি আপনাকে প্রদান করবেন।  বর্ণিত আয়াতের তাফসীরকারকদের মতে, নামাযের দোয়ার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং জানাযা নামায যেহেতু এক প্রকার ফরয নামায যদি ও তা ফরযে কেফায়া। সেহেতু জানাযা নামাযের পর দো’য়া করা ও প্রমানিত।

দলীল নং- ০২:عن امامة رضى الله تعالى عنه قال قيل يا رسول الله اي الدعاء اسمع ؟ قال جوف الليل الاخرودبر الصلوات المكتوبات  – অর্থাৎ হযরত আবু উমামাহ বাহেলী (রাঃ) হতে বর্নিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিঙ্ঘেস করা হলো যে, কোন মুহূর্তের দো’আ অধিক কবূল হয়ে থাকে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন রাতের শেষাংশের দো’আ (তাহাজ্জুদের সময়) এবং ফরয নামায সমূহের পরের দো’আ  (দ্রুত কবূল হয়ে থাকে)”।  জানাযা যেহেতু ফরযে কেফায়ার নামায তাই এ নামাযের পরে ও দো’আ করা এ হাদীসের ভিত্তিতে জায়েয, যেভাবে পাচঁ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরেও জায়েয।

দলীল নং- ০৩:عن ابي هريرة رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء  – অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেলবে তখন সাথে সাথেই (বিলম্ব না করেই) তার জন্য একটি খাস দো’আ কর।  এ হাদীস দ্বারা প্রমানিত হল যে, জানাযা নামাযের পর পরই মৃত ব্যক্তির জন্য খাস করে দো’আ করতে হবে। জানাযা নামাযের পর দো’আ অস্বীকারকারীগণ এ হাদীসের উল্লেখিত দোয়াকে নামাযের মধ্যে পঠিত দো’আ অথবা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরস্থানে দো’আ করাকে বুঝাতে আপ্রান চেষ্টা চালায়। তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আলোচ্য হাদীসে    فاخلصواশব্দের মধ্যে فاء  হরফের অর্থ কি? আল্লামা সিরাজুদ্দীন উসমান (রহঃ) এর নাহু শাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব হেদায়াতুন নাহুতে হরফের অধ্যায়ে  فاءহরফের অর্থ লিখা হয়েছেالفاء للترتيب بلا مهلة نحو قام طفيل فبرهان و اذا كان الطفيل متقدم وبرهان متاخرا بلا مهلة অর্থাৎ فاء  হরফটি বিলম্বহীন পর্যায়ক্রমিক অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন قام طفيل وبرهان অর্থ তুফাইল দাঁড়ালো অতঃপর বুরহান দাঁড়ালো। এ উদাহরনটিতে তুফাইলের দাঁড়ানো বুরহানের পূর্বে হবে এবং বুরহানের দাঁড়ানো বিলম্বহীন ভাবে তুফাইলের পরে হবে। অর্থাৎ বুরহানের দাঁড়ানো তুফাইলের পূর্বে বা তার সাথে হবে না। এমনকি তুফাইলের দাঁড়ানোর অনেক পরে ও হবে না বরং তুফাইল দাঁড়ানোর পর তার সাথে সাথেই বুরহান দাঁড়াবে।

সুতরাং উক্ত হাদীস শরীফের ইবারত হল- اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء  অর্থাৎ যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেল। অতঃপর তাঁর জন্য খাস করে দো’আ কর। আলোচ্য ইবারতে প্রথমে নামায পড়ার কথা বলা হয়েছে। তার পর দো’আ করার জন্য বলা হয়েছে। তাই উক্ত দোয়াটি নামাযে পঠিত দো’আ হিসেবে গন্য হবেনা। নামাযের পরেই বিলম্ব না করে দো’আ করতে হবে। এবং নামাযের পর দাফন পর্যন্ত বিলম্ব করে তার পরে পঠিত দো’আ হিসেবে ও উক্ত দো’আটি যদি দাফনের পরবর্তী দোআ হিসেবে বুঝানো হত তাহলে হাদীস শরীফের ইবারতেفاء হরফ ব্যবহার না করে  ثم(ছুম্মা) হরফ ব্যবহার করা হত কারণ ছুম্মা হরফের অর্থ হলো الترتيب بمهلة অর্থাৎ বিলম্বের সহিত পর্যায়ক্রম। যেমন বলা হয়।  دخل انوار ثم محمودঅর্থাৎ আনওয়ার প্রবেশ করল অতঃপর বিলম্ব করে মাহমুদ প্রবেশ করল। অনুরূপ ফা হরফের অর্থ দুরুসুল বালাগাত কিতাবের প্রনেতা আল্লামা বেগ নাসেফ, মুহাম্মদ বেগ দিয়াব, মুস্তফা তাম্মুম ও সুলতান আফেন্দী (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”।  অনুরূপ ফা হরফের অর্থ কাফিয়া কিতাবের প্রনেতা আল্লামা জালালুদ্দীন ইবনে হাযেব (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”।  অনুরূপ (ফা) হরফের অর্থ নুরুল আনওয়ার কিতাবের ব্যাখ্যাকার আল্লামা মোল্লা জীউন (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”।

তাই বুঝা গেল রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাযা নামাযের পর পরই দোআ করার জন্য আদেশ করেছেন। আর যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশের বিপরীতে কথা বলে তাদের ঈমান আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

দলীল নং- ০৪: প্রসিদ্ধ ফকীহ ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম (রাহঃ) তার ফাতাওয়ার কিতাবে মুতার যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ করেন। হযরত আব্দুল জাব্বার বিন উমারাহ (রাঃ) তিনি হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী বাকরাহ (রাঃ) থেকে তিনি বলেন যখন (শামদেশে) মুতানামক স্থানে (মুসলমান এবং কাফের) যুদ্ধ শুরু করল। তখন রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর) মিম্বরে বসা ছিলেন, তখন তার এবং শাম দেশের মধ্যবর্তী স্থানের সকল আবরন দূর করে উন্মক্ত করে দেয়া হল। তিনি মুতার যুদ্ধ সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে লাগলেন। অতঃপর রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ) (ইসলামের) পতাকা হাতে নিয়েছেন। কিছুক্ষন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জানাযার নামায পড়লেন এবং তার জন্য দোআ করলেন ও (উপস্থিত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে) বললেন তোমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি জান্নাতে প্রবেশ করে সেখানে ঘুরাফেরা করছেন। অতঃপর হযরত জাফর ইবনু আবী তালেব (রাঃ) পতাকা নিজ হাতে নিলেন কিছুক্ষন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।  فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه و سلم   ودعا له وقال استغفروا له অর্থাৎ অতঃপর রসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযা নামায পড়লেন এবং তার জন্য দোআ করলেন লোকদেরকে ও তার মাগফিরাতের জন্য দোআ করতে বললেন”।

দলীল নং- ০৫: মুতার যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীর জানাযা নামাযের পর কী করলেন তা ইমাম বায়হাক্বী (রাহঃ) সুন্দর করে সহীহ সনদে এভাবে বর্ননা দিচ্ছেন

عن عاصم بن عمر بن قتادة   ان النبى صلى الله عليه و سلم قال لما قتل زيد اخذ الراية جعفر بن ابى طالب فجاءه الشيطان فجبب اليه الحياة وكره اليه الموتى ومنه الدنيا فقال الان حين استحلم الايمان فى فلوب المؤمنين تمنينى الدنيا ؟ ثم مضى قدوما حتى استشهد فصلى عليه صلى الله عليه و سلم ودعا له وقال استغفروالاخيكم فانه شاهد دخل الجنة وهو يطير فى الجنة بجناحين من ياقوت حيث يشاء من الجنة

অর্থাৎ হযরত আছিম বিন উমর বিন কাতদাহ (রাঃ) বর্ননা করেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জানাযার নামায পড়লেন এবং তাঁর জন্য দোআ করলেন তারপর বললেন তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার কর, নিশ্চয়ই সে এখন শহীদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং ইয়াকুত ডানায় ভর করে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়াচ্ছেন ”।

দলীর নং- ০৬: বিখ্যাত হানাফী ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা কাসানী ওফাত ৫৮৭ হিজরী হাদীসটি দুজন সাহাবী এ ভাবে বর্ননা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) এবং হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত-

فاتتهما صلاة على جنازة فلما حضرا ما زاد على الاستغفار له و روي عن  عبد الله بن سلام انه فاتته الصلاة على جنازة عمر رضى الله عنه فلما حضر قال: ان سبقتمونى بالصلاة عليه فلا تسبقونى بالدعاء له   –

অর্থাৎ উভয়ে এক জানাযায় গিয়ে জানাযার নামায না পেয়ে মায়্যিতের জন্য ইস্তিগফার পড়লেন বা দোআ করলেন। আরেক বর্ননায় রয়েছে একদা হযরত উমর (রাঃ) এর জানাযা যখনই শেষ হয়েগেল তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) আসলেন, তিনি বললেন হে আমার সাথীরা! তোমরা আমার পূবেই জানাযার নামায পড়ে ফেলেছো কিন্তু জানাযার পর দোআ আমাকে বাদ দিয়ে করো না অর্থাৎ আমাকে সাথে নিয়েই দোআা করো ”।

উক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমানিত হয় যে, সাহাবায়ে কেরামগন জানাযার পর পুনরায় দোআ করতেন। এটা ছিল সাহাবাগনের সম্মিলিত আমল, সুতরাং জানাযার পর দোআ করা সাহাবীদের সুন্নাত।

দলীল নং- ০৭: হযরত ইবরাহীম হিজরী (রাঃ) বললেন আমি হযরত আবদুল্লাহ বিন আওফা (রাঃ) যিনি বাইতুর রিদওয়ানের তাঁর কন্যার ওফাত হলে তিনি তাঁর মেয়ের কফিনের পেছনে একটি খচ্ছরের উপর সওয়ার হয়ে যাচ্ছেন। তখন মহিলারা কান্না করতে ছিলেন। তিনি তাদেরকে বললেন তোমরা মর্সিয়া করোনা, যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মর্সিয়া করতে নিষেধ করেছেন। তবে তোমাদের মধ্যে যে কেউ চায় অশ্রু ঝরাতে পারবে।ثم صلى عليها فكبر عليها اربعا’ثم قام بعد الرابعة قد ربين ما بين التكبرتين يستغفر لها ويدعو وقال: كان  رسول الله صلى الله عليه و سلم يصنع هكذا  এরপর জানাযার নামায চারটি তাকবীরের মধ্যে সম্পন্ন করলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর, দুই তাকবীরের মধ্যখানের সময় পরিমান দো’আ করতে ছিলেন এবং তিনি (সাহাবী) বললেন অনূরূপ রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাযায় করতেন”।

দলীল নং- ০৮: বর্নিত হয়েছে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা জানাযার নামায শেষ করলেন। এরপর হযরত ওমর (রাঃ) উপস্থিত হলেন তাঁর সাথে কিছু লোক ও ছিল। তিনি দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়তে চাইলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বললেন জানাযার নামায দ্বিতীয় বার পড়া যায়না  ولكن ادع للميت و استغفر له  তবে তুমি মৃত ব্যক্তির জন্য দোআ করতে পার এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো”।

সুতরাং উপরোক্ত দলিলাদির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম জানাযা নামাযের পর মৃত ব্যক্তির জন্য তাঁর বিদায় বেলায় মুনাজাত বা দোআ করা একটি উত্তম উপহার। আমাদের সাধারণ বিবেক বলে এত দিন যারা আমাদের একান্ত আপনজন হিসেবে ছিলেন যারা আমাদের সুখে-দুঃখে ছিলেন তাদেরউপকার করার জন্য কোন উপায় আমাদের নেই। কেবল তাদের জন্য দোআ করাই একমাত্র উপহার। শরীয়ত সম্মত একটি উত্তম আমল জানাযার পর দোআ করার বিরোধিতা করতে গিয়ে সমাজে ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি কারীরা একটি খোড়া যুক্তি অবতারনা করে বলে বেড়ায় জানাযাইতো দোআ আবার দোয়ার কী প্রয়োজন? আমরা বলতে চাই দোআ করা যদি না জায়েয হয় তাহলে ভাত খাওয়ার পর আর কিছু খাওয়া যাবে না। কারন খাওয়ার পর আবার কিসের খাওয়া? বিষয়টি একবারে হাস্যকর। মূলত জানাযা কেবল দোআ হিসেবে আখ্যায়িত করা অজ্ঞতার নামান্তর। কারণ যে কারণে তারা জানাযাকে দোআ বলতে চায় সে কারনে অন্যান্য নামাযকে ও দোআ বলতে হবে। কেননা সকল নামাযের ভিতরে কোন না কোনোভাবে দোআ রয়েছে।

এবার যুক্তিকে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা প্রয়োজন। মূলত জানাযার নামায দোআ নয়। নামাযের সকল শর্তাবলী জানাযার নামাযে ও বিদ্যমান। যেমনঃ

১)            জানাযার জন্য ওযু কিংবা তায়াম্মুম শর্ত কিন্তু দোয়ার জন্য শর্ত নয়।

২)            জানাযার জন্য কিবলামুখী হওয়াশর্ত কিন্তু দোয়ার জন্য নয়।

৩)           জানাযার জন্য কিয়াম তথা দাড়ানো শর্ত দোয়ার জন্য নয়।

৪)            ফিকহের কিতাব সমূহে কোথাও জানাযাকে দোআ হিসেহে উল্লেখ করা হয়নি বরং সব জায়গায় লিখা আছে “সালাতুল জানাযাহ” তথা জানাযার নামায। এমনকি জানাযার পূর্বে যে নিয়ত করা হয় তাতে ও আমরা বলে থাকি “সালাতিল জানাযাহ” দোআ -ইল- জানাযাহ কেউ বলেনা।

৫)           যে কারনে নামায ভঙ্গ হয় সে কারণে জানাযার নামায ও ভঙ্গ হয়।

৬)           নামায জামাতে হয় জানাযা ও জামাতে হয়।

৭)            নামাযে নিয়্যত আছে জানাযায় ও নিয়্যত আছে।

৮)          নামাযে সালাম আছে জানাযায় ও সালাম আছে।

৯)           জানাযায় রুকু সিজদা নেই একেক ধরনের নামায একেক ধরনের হয় যেমন ইস্তিকার নামায, ইস্তিখারার নামায, সালাতুত তাসবীহ ইত্যাদি বিভিন্ন রূপ (উসুলুশ শাশী)।

১০)         নামায থেকে সালাম দ্বারা বের হতে হয় জানাযায় ও তাই কিন্তু দোআ থেকে পৃথক হতে সালাম প্রয়োজন হয়না।

১১)         ফরয নামাযের পর দোআ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমানিত জানাযার নামায ফরযে কেফায়া তাই এতে ও দোআ অপরিহার্য।

১২)         সালাতুল মাগরিবকে মাগরিবের দোআ বলা হয় না বরং নামায বলা হয় তাহলে সালাতুল জানাযাকে জানাযার দোআ কেন বলা হবে? তাই এটা ও নামায।

১৩)        নামাযের জন্য আযান আছে, জানাযার জন্য ও এলান (ঘোষনা) আছে সকল নামাযেই দোআ আছে শুধু জানাযাকে খাস করা ঠিক নয়।

১৪)         নামাযে মাসবুক (বিলম্বে আসলে) যেভাবে পরবর্তীতে নামায সম্পন্ন করতে হয় একই ভাবে জানাযার একই হুকুম। কিন্তু দোআয় মাসবুকের মাসআলা নেই।

১৫)         দোআয় এদিক সেদিক তাকানো যায়, নামাযে ও জানাযায় তাকানো যায়না, তাই জানাযার নামায দোআ হয় কী করে।

১৬)        নামাযে মুক্তাদীর জন্য “ইক্তিদা” আছে জানাযায় ও আছে।

১৭)         ইস্তিসকার নামায মাঠে ময়দানে হয় জানাযার নামায ও তাই বরং প্রয়োজনে মসজিদে ও পড়া যায়।

১৮)        বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরের কিতাব তাফসীরে জালালাইনে আছে, আর যখন নামায হতে অবসর গ্রহন করবে অতঃপর দোয়ার মধ্যে মশগুল হয়ে যাও। নামায শেষ হওয়ার পর দোআর কথা বলা হয়েছে। জানাযা দোআ নয় বরং নামায, তাই তাঁর পর দোআ করতে হবে। সুতরাং একটি ফরযে কিফায়ার নামাযকে কেবল দোআ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে হালকা করে দেয়ার কোন মানে হয়না।

অতএব আসুন তর্কের খাতিরে তর্কনয় বরং সত্যকে জানার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা   ও রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যকে মান্য করার চেষ্টা করি। আমীন! বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম।

আযানের পূর্বে ও পরে দরুদ ও সালাম প্রসঙ্গ

আযানের পূর্বে ও পরে দরুদ ও সালাম প্রসঙ্গ

মুহাম্মদ জিহাদ উল্লাহ জিহাদী

 

আযানের পূর্বে ও পরে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা শুধুমাত্র জায়েজই নয় বরং উত্তম। ইহা শরীয়ত স্বীকৃত একটি গ্রহনযোগ্য ইবাদত। যা অস্বীকার করার মোটে ও কোন সুযোগ নেই। প্রথমে আমরা আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা সর্ম্পকে আলোকপাত করবো।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশ প্রদান পূর্বক পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন,  ان الله ملائكته يصلون على النبى يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما – অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি (সদা-সর্বদা) দরুদ ও সালাম পাঠ করে থাকেন। হে ঈমানদারগণ তোমরা ও সেই নবীর প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাসহকারে সালাত ও সালাম পাঠকর। (সূরাহ আহযাব, আয়াত নং- ৫৬) প্রিয় পাঠক বৃন্দ, দেখুন অত্র আয়াতে কারীমায় দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে কোন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়নি বিধায় নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে নবীজীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য বৈধ ও কর্তব্য।আযানের সময়টি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সুতরাং উক্ত আয়াতে এই সময়টি ও অর্ন্তুভুক্ত। এখন আমরা দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করবো ইনশআল্লাহ। যার মাধ্যমে প্রতিয়মান হবে যে, আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা জায়েজ ও মুস্তাহাব।

দলীল নং- ০১: জগত বিখ্যাত ফাতাওয়ার কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামীর মধ্যে বর্নিত আছেومستحبة فى كل اوقات الامكان اى حيث لا مانع  অর্থাৎ নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্থাহাব।  এখন প্রশ্ন হবে কোন কোন স্থানে দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ? তার জবাবে  আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রাহঃ) ঐ (শামী) কিতাবের একই পৃষ্ঠায় একটু অগ্রসর হয়ে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বর্ননা করেছেন   تكره الصلاة عليه صلى الله عليه و سلم فى سبعة مواضع . অর্থাৎ সাত স্থানে আল্লাহর হাবীরের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ। তাছাড়া অন্য সবক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় পাঠ করা মুস্তাহাব। নিষিদ্ধ স্থান সমূহ নিম্মরূপঃ-

(১) স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে। (২) প্রশ্রাব-পায়খানার সময়। (৩) ব্যবসায়ী সামগ্রী প্রচারার্থে। (৪) হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার সময়। (৫) আশ্চার্যজনক কোন ঘটনা শ্রবনকালে। (৬) জবেহ করার সময়। (৭) এবং হাঁছি দেওয়ার সময়।

দেখুন নিষিদ্ধ স্থান ও সময়ের মধ্যে আযানের কথা যেহেতু উল্লেখ নেই সেহেতু আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করাও মুস্তাহাব প্রতীয়মান হলো।

দলীল নং- ০২: মক্কা শরীফের ফাতাওয়ার কিতাব ইয়ানাতুত তালেবীন যা লিখেছেন আল্লামা বিক্রী (রাহঃ) যিনি ছিলেন মক্কা শরীফের একজন প্রসিদ্ধ মুফতী। তিনি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন قال الشيخ الكبير البكرى انها تسن قبلهما اى الصلوة على النبى  صلى الله عليه و سلم قبل الاذان والاقامة . – অর্থাৎ তিনি বলেন আযান এবং ইকামাত উভয়ের পূর্বেই দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।

দলীল নং- ০৩: আল্লামা ইমাম কাজী আয়াজ (রাহঃ) রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেনومن مواطن الصلاة عليه  صلى الله عليه و سلم  عند ذكره و سماع اسمه او كتابته او عند الاذان অর্থাৎ দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব ওয়াক্ত সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলোচনা কালে, তাঁর নাম মোবারক শ্রবনকালে ও লিখার সময় এবং আযানের পূর্বে।  এখানে عند(ইন্দা) শব্দের অর্থ হলো পূর্বে। যার প্রমাণ নিম্মোক্ত হাদীস শরীফে পাওয়া যায়। যেমনঃقال رسول الله صلى الله عليه و سلم لولا ان اشق على امتى لامرتهم بالتاخر العشاء و بالسواك عند كل    صلاة – অর্থাৎ উম্মতের কান্ডারী রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার নবুয়াতী জবানে ঘোষণা করেছেন যদি আমি উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে (উম্মত কে) নির্দেশ প্রদান করতাম যে তারা যেন ইশার নামাজকে বিলম্বে আদায় করে এবং প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করে। (বুখারী ও মুসলিম)

দলীল নং- ০৪:  মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত মাযহাব চতুষ্টয়ের উপর লিখিত ফেকাহ শাস্ত্রের কিতাব আল ফিকহু আলাল মাজাহিবিল আরবায়া নামক কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে باب صلوة على  النبى صلى الله عليه و سلم قبل الاذان والتسابيح قبله بالليل উক্ত শিরোনাম দ্বারা ফকীহ নিজেই আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে বৈধ বা জায়েজ বলে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন।

দলীল নং- ০৫: তাফসীরে রুহুল বয়ানের লিখক বিশ্ব বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ঈসমাইল হাক্কী (রাহঃ) সূরাহ আহযাবের ৫৬নং আয়াতের ব্যাখায় দরুদ ও সালাম পাঠের মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে তিনি বলেন عند الابتداء كل امر ذى بال  অর্থাৎ প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজ শুরু করার পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।

সুতরাং আযান যেহেতু ইসলামী শরীয়তের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজ সেহেতু আযানের পূর্বে ও সালাত ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব। যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

দলীল নং- ০৬: দোজাহানের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’আব (রাঃ) আল্লাহর হাবীবকে লক্ষ্য করে বললেনاجعل لك صلواتى كلها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا يكفي همك و يغفر لك ذنبك  – অর্থাৎ ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে সব সময়ের (চব্বিশ ঘন্টার) জন্য অপরিহার্য করে নিলাম, তখন প্রতিদান স্বরুপ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার সকল পাপ ও ক্ষমা করা হবে।  সুবহানাল্লাহ! এতে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হলো যে শরীয়ত কর্তৃক কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সদা-সর্বদা দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব ও উত্তম।

এখন আমরা আযানের পরে দরুদ ও সালাম পাঠ করার বৈধতা নিয়ে আলোচনা করবো। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর প্রতি গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত করলে এই কথা অকপটে স্বীকার করতেই হবে যে,আযানের পরে দরুদ ও সালাম পাঠ করা শুধুমাত্র বৈধই নয় বরং সুন্নাতে সাহাবা। যার প্রমান নিম্মে প্রদান করা হলো

দলীল নং- ০৭: عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول . ثم صلوا علي الخ  – অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নবুয়াতী জবানে ইরশাদ করেন- ‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে তখন তোমরা তাই বলো যা মুয়াজ্জিন বলবে। অতঃপর ( যখন আযান শেষ হবে) তোমরা আমি নবীর প্রতি (দো’আ করার পূর্বে) দরুদ ও সালমা পাঠ করো।

প্রিয় পাঠক মহল উপরিউক্ত আলোচনা থেকে কতই না সুন্দর ভাবে প্রমানিত হলো যে আযানের পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব এবং পরে পাঠ করা সুন্নাত। কেউ যদি সুন্নাত নয় বরং কোন মুস্তাহাবকে ও অস্বীকার করে অথবা হারাম- নাজায়েজ বলে তাহলে সে কাফির হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা কোন হালাল বস্তুকে হারাম বলা কুফুরী।

আপত্তিঃ দরুদ ও  সালাম বিরোধীগণ বলতে চায় প্রচলিত নিয়মে আযানের পূর্বে ও পরে সালাত ও সালাম পাঠ করা নবী, সাহাবী এবং তাবেয়ী গনের যুগে ছিলো না, তাই ইহা করা বিদআত।

জবাবঃ নবী, সাহাবী এবং তাবেয়ী গনের যুগে অনেক কিছুই ছিল না যা বর্তমানে বিরোধীগণএকাগ্রচিত্তে পালন করছে। যেমনঃ মসজিদে টাইলস, এসি, পাখা, পাচঁ কল্লী টুপি, কোরআন শরীফে হরকত, আরবী ব্যাকরণ ইত্যাদি ব্যবহার করা। নিজের বেলায় জায়েজ আর নবীর ক্ষেত্রে বেদআত? এ আবার কেমন বিচার? নাকি রাসূল দুশমনীরই প্রমান? অথচ কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন من جاءبالحسنة فله عشر امثالها .অর্থাৎ কেউ যদি কোন ভাল কাজের প্রচলন করে তাহলে তাঁর জন্য রয়েছে দশগুন প্রতিদান।  শুধু তাই নয় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন   من سن فى الاسلام سنة حسنة فله اجرها واجر من عمل بها . – অর্থাৎ কেউ যদি ইসলামের মধ্যে (শরীয়ত সমর্থিত) কোন নতুন পদ্ধতি ( নেক কাজের) প্রচলন করে তাহলে সে (প্রচলনকারী) সাওয়াব পাবে এবং যে তাঁর প্রচলনকৃত বিষয়ের অনুসরণ করবে সে ও  অনুরূপ সাওয়াবের অংশীদার হবে।  (সুবহানাল্লাহ)

প্রিয় পাঠক মন্ডলী, ফায়সালা আপনারাই করুন যে কাজ (দরুদ ও সালাম) আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাগণকে নিয়ে সদা-সর্বদা করেন এমনকি যারা ঈমানদার তাদেরকে ও করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেটা কী ভাল নাকি মন্দ? অবশ্যই তাহা কিছুতেই মন্দ হতে পারে না।

আসুন আমরা সকলে দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতী দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর হাবীবের প্রতি বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তি অর্জন করার মত তাওফিক দান করেন। আমিন! বেহুরমাতি সায়্যিদুল মুরসালীন।