মোঃ হারুনুর রশীদ

কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া মাদরাসা।

বিশ্ব নবী হুজুর (সা:) এর বহু বিবাহ সম্পর্কে ইতিহাস যাহা সাক্ষ্য দিতেছে তাহার উদ্ধৃতি নিম্নে দেওয়া হল। বিশ্ব নবী হুজুরে করিম (সা:) এর বয়স যখন ২৫ বছর তখন ৪০ বছর বয়স্কা নারী হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) এর সাথে প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত হুজুর পাক (সা:) অন্য কোন নারীকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করেন নাই। যখন হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) ইন্তেকাল করেন তখন হুজুর পাক (সা:) হযরত সওদা (রা:) কে বিবাহ করেন। তিনি এক স্বামী হতে বিধবা ছিলেন। তার পর হযরত আবু বকর (রা:) এর গভীর আগ্রহে দ্বিতীয় হিজরীতে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন মা আয়শা সিদ্দিকা (রা:) নাবালিকা ছিলেন। বিবাহের পর পূর্ণ ২ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর বিশ্ব নবীর ঘরে মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) আসেন। নবী করিম (সা:) এর স্ত্রীগনের মধ্যে শুধু হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) ই ছিলেন এক মাত্র কুমারী। আর বাকী সব স্ত্রীগনই ছিলেন এক বা একাধিক স্বামী হতে বিধবা বা তালাক গৃহীতা। তৃতীয় হিজরীতে হুজুর পাক (সা:) হযরত ওমর (রা:) এর কণ্যা হযরত হাফসা (রা:) কে বিবাহ করেন। তিনি তা করেন হযরত ওমর (রা:) একান্ত আগ্রহের কারণে। হযরত ওমর (রা:) আবু বকর (রা:) এর মত নবী করিম (সা:) এর শশুর হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। হাফসা (রা:) এক স্বামী হইতে বিধবা ছিলেন। এই সনে অর্থাৎ হিজরীর তৃতীয় সনে জয়নব বিনতে খোজায়মা (রা:) কেও হুজুর পাক (সা:) বিবাহ করেন। তিনি তিন স্বামী হতে বিধবা ছিলেন। এবং তিনি তিন মাস পর মৃতু্য বরণ করেন। উক্ত সনে হুজুর পাক (সা:) আর একটি বিবাহ করেন তিনি হলেন হযরত ছালমা (রা:)। তিনি এক স্বামী হতে বিধবা ছিলেন। ৫ম হিজরীতে হুজুর পাক (সা:) এর সাথে স্বয়ং আল্লাহ পাক হযরত জয়নব (রা:) কে বিবাহ পড়াইয়া দেন। তিনি নিজ স্বামী হতে তালাক গ্রহীতা ছিলেন এই হিজরীতে হযরত জুয়াইরিয়া (রা:) কে হুজুর পাক (সা:) নিজ আক্দে নিকাহতে স্থান দিয়েছিলেন। এই সনে হুজুর পাক (সা:) হযরত উম্মে হাবিবা (রা:) কেও বিবাহ করেন। তাহার স্বামী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। সর্ব শেষ হযরত মায়মুনা (রা:) কে হুজুর পাক (সা:) ৭ম হিজরীতে স্ত্রী রুপে গ্রহণ করেন। তিনি দুই স্বামী হইতে বিধবা ছিলেন।
আলোচনাঃ- কাম ভাবের তাড়নায় যদি হুজুর পাক (সা:) বহু বিবাহ করিতেন তাহলে যৌবনের এক বড় অংশ অর্থাৎ ২৫ হইতে ৫০ বৎসরের বয়স পর্যন্ত শুধু মাত্র একজন ৪০ বৎসর বয়স্কা বিধবা নারীর সহচরে কাটাইতেন না। আর এই খাদিজাতুল কুবরা (রা:) হুজুর পাক (সা:) হতে ১৫ বছরের বড় ছিলেন। কিন্তু তার জীবনদশায় তিনি অন্য কোন নারীর পানি গ্রহন করেন নাই। আর প্রিয় নবীজি (সা:) এর যদি কাম ভাব থাকত তাহলে নবীজির সাহাবীদের মধ্যে অনেক সাহাবীর কুমারী কণ্যা ছিল তাহাদের তিনি বিবাহ করিতে পারিতেন। কিন্তু নবী করিম (সা:) শুধু মাত্র মা আয়েশা (রা:) কে কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন। বাকিরা বিধবা ও তালাক গ্রহিতা ছিলেন। নবী করিম (সা:) এর বহু বিবাহের কারন ছিল নিম্ন রুপ, যেমন (১) প্রিয় নবীজি তাদের কে এই কারনে বিবাহ করেছিলেন যে তাদের মধ্যে অনেকেই হুজুর পাক (সা:) এর আশ্রিত হতে চেয়েছিলেন। (২) নবী করিম (সা:) মেয়ে লোকদের জন্য ও নবী হইয়া প্রেরিত হইয়া ছিলেন। মেয়ে লোকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাছয়ালার পার্থক্য হইয়া থাকে তাই নবী করিম (সা:) কয়েকজন নারীদের স্ত্রী রুপে গ্রহন করিয়া বিভিন্ন মাছয়ালার ওয়াকেফহাল বয়ান করিয়া দিয়াছেন। (৩) অনেকেই অভিভাবকহীনা ছিলেন। মাথা গুজিবার কোন জায়গা ছিলনা। তারা প্রিয় নবীজির আশ্রিত হতে চেয়েছিলেন। তাই নবীজিতাদের আশ্রয় দানের জন্য স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করিয়া ছিলেন। (৪) কেহ কেহ বড় বড় সরদারদের কন্যা ছিলেন তারা মুসলমানদের হাতে আসার পর কাহার অধীনে আশ্রিত হতে চাইত না আবার অনেকে কাহার অধিনে থাকার শোভা পাইতেছিলনা। ইত্যাদি কারনে হুজুর (সা:) তাদের বিবাহ করে ছিলেন।
কেহ কেহ বাদী ছিলেন হুজুর পাক (সা:) তাদের মুক্ত করে দিয়ে বিবাহ করেছিলেন। ইহা দ্বারা প্রমানিত হয় যে, ইসলাম গোলামী প্রথাকে পছন্দ করে না। আল্লাহ পাক নবী করিম (সা:) এর জন্য অগনিত স্ত্রী লোক জায়েজ রাখিয়াছেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেছেন, ………………………………..
অর্থাৎ আপনি যাকে ইচ্ছা বিবাহ করিতে পারেন তাতে কোন আপত্তি নাই।
***আল্লামা কোরতবী ও ইমাম খাত্তাবী একটি ছহিহ রেওয়ায়েত নকল করিয়াছেন যে, হুজুর করিম (সা:) শরীর মোবারকে ৪০ জন বেহেস্তী পুরুষের শক্তি ছিল। যাহা একজন নিম্নতম বেহেস্তীর গায়ে দুনিয়ার কমপক্ষে ১০০জন পুরুষের শক্তির সমান। ইহা থেকে বলা যায় যে, হুজর পাক (সা:) এর শরীর মোবারকে ৪০০০ হাজার সু-পুরুষের শক্তি ছিল। আল্লাহ পাক দুনিয়ার একজন আদনা মানুষের জন্য ৪ জন স্ত্রী গ্রহন করা জায়েজ করিয়াছেন। সে হিসাবে নবী করিম (সা:) ১৬,০০০ (ষোল হাজার) স্ত্রীর প্রয়োজন ছিল। সে স্থলে নবী করিম (সা:) মাত্র ৯ জন স্ত্রীর উপর যথেষ্ট ছিলেন। আর তাহারা আবার এক বা একাধিক স্বামী হতে বিধবা ছিলেন। ইহা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, নবী করিম (সা:) কতই না ধৈর্য্যশীল ছিলেন। জ্ঞানী লোকেরাই ইহা বুঝিতে পারিবেন। আর ধোকাবাজদের ধোকাবাজিতে পড়ার কোন সুযোগ নাই। যাহারা নবী করিম (সা:) এর সম্পর্কে এবং তাহার একাধিক স্ত্রীগনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন তাদের আমি ধিক্কার জানাই। তাহারা নরপিচাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহ পাক ঐ সকল নর পিচাসদের কে তাহার কুদরতি দন্ডে দন্ডিত করুন।
পরিশেষে আমি বলতে চাই যাহারা আমার প্রিয় করিম (সা:) সম্পর্কে মনে মনে ও প্রকাশ্যে এই রুপ বিরুপ প্রতিক্রিয়া পোষণ করেন তাদের তওবা করা উচিত এবং আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিৎ।

Advertisements

About sunniaaqida

sunniaaqida

One response »

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s