মাওলানা মুহাম্মদ মুশতাক আহমদ সাহেব
প্রধান মুহাদ্দিস
কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা

ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস আল হাদীস। হাদীস বলতে ইসলামের পরিভাষায় প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মুসত্দফা সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম এর সকল বর্ননা তথা কথাবার্তা, কাজকর্ম ও যাবতীয় অবস্থাবলীকে বুঝায়। যেমন আলস্নামা হাফিয শামসুদ্দিন সাখাভী (র:) ‘ফাতহুল মুগীস’ গ্রন্থে হাদীসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন_ ১

অর্থাৎ “প্রিয়নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম এর সাথে সমর্্পকিত যে কোন কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, তাঁর গুনাগন অবস্থার বিবরন এমনকি তাঁর জাগ্রত কিংবা নিদ্রাকালের প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা ইত্যাদির বর্ননাকে হাদীস বলে।
ইলমুল হাদীসের পরিচয় ঃ যে জ্ঞান লাভ করলে কিংবা যে শাস্ত্র অধ্যয়ন করলে রাসূলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম, সাহাবী ও তাবেয়ীনের কথা, কাজ, সম্মতি, অবস্থা ও গুনাগুন সম্পর্কে জানা যায় তাকে ইলমে হাদীস বলে। মূলত ইলমে হাদীস দু’টি অংশে বিভক্ত। একটির নাম সনদ, অপরটির নাম মতন। তাই আলস্নামা যুরকানী ও আলস্নামা ইযযুদ্দিন ইবনে জামাআহ (রঃ) ইলমে হাদীসের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন_ ২

অর্থাৎ “ইলমে হাদীস হলো- এমন সব নীতিমালার জ্ঞান লাভ করা যা দিয়ে সনদ ও মতনের অবস্থাদি জানা যায়”।
সনদের পরিচয় ঃ
সনদ শব্দের অর্থ হলো- নির্ভর করা, সম্পৃক্ত বা সংযুক্ত করা। আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সনদ ঐসব লোকদের ধারাক্রমকে বলা হয় যাদের মাধ্যমে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ ৰেত্রে সনদ ও ইসনাদ দু’টি শব্দই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আলস্নামা ইবনে হাজর আসকালানী (র:) বলেন- ৩
অর্থাৎ “হাদীসের মতন তথা মূলভাষ্য পর্যনত্দ পেঁৗছার ধারাবাহিকতা বর্ননা করাকে ইসনাদ (অর্থাৎ সনদ) বলে”। এককথায় বলতে গেলে হাদীসের মূলভাষ্য পর্যনত্দ পেঁৗছে দেয়ার ৰেত্রে যে সকল বর্ননাকারী থাকেন তাদের ধারাবাহিকতাকেই সনদ বা ইসনাদ বলে।

মতনের পরিচয় ঃ মতন শব্দের অর্থ হলো- পিঠ, শক্ত ও উচুঁ ভূমি। আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় হাদীসের মূল বক্তব্যকে মতন বলা হয়। আলস্নামা ইবনে হাজর আসকালানী (র:) বলেন- ৪

অর্থাৎ “বক্তব্যের যেখানে গিয়ে সনদের ধারাবাহিকতা বর্ননা শেষ হবে সেখানেই
মতনের সূচনা। সুতরাং হাদীসের শব্দাবলীকেই মতন বলা হয় উদাহরন স্বরম্নপ সহীহ বুখারী শরীফের নিম্মোক্ত হাদীসটি পেশ করা হলো- ৫

অর্থাৎ “ইমাম বুখারী বলেন- আমাদেরকে হাদীস বর্ননা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন- আমাদেরকে খবর দিয়েছেন শুয়াইব, তিনি বলেন-আমাদেরকে হাদীস বর্ননা করেছেন আবুযযিনাদ আ’রয এর সূত্রে, আর আ’রয হযরত আবু হুরায়রা (রা:) এর সূত্রে বর্ননা করেন যে, রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম ইরশাদ করেছেন- সেই সত্ত্বার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মুমিন হবে না যতৰন পর্যনত্দ আমি (নবী) তার নিকট তার পিতা-মাতা ও সনত্দানদের চেয়ে অধিক প্রিয় হব না”। অর্থাৎ আমার ভালবাসা তার পিতা মাতা ও সনত্দানদের চেয়ে বেশী হবে না। ততৰন পর্যনত্দ সে মুমিন হতে পারবে না। আলোচ্য হাদীসে ৬ শব্দ থেকে ৭ পর্যনত্দ অংশটিকে বলা হয় সনদ। আর ৮ থেকে শেষ পর্যনত্দ অংশ টুকুকে বলা হয় মতন।
হাদীস বর্ননা ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার ৰেত্রে সনদের গুরম্নত্বঃ
হাদীসের শুদ্ধাশুদ্ধি ও যাচাই বাছাই এর মানদন্ড হলো সনদ। সনদের উপরই বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরশীল। তাই হাদীস শাস্ত্রে সনদের গুরম্নত্ব অপরিসীম। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন- হাদীস প্রমাণের জন্য ধারাবাহিক সনদ বর্ননা করা উম্মতে মুহাম্মদীর বিশেষত্য। যা থেকে পূর্ববর্তী উম্মতগন বঞ্চিত ছিল। এ প্রসঙ্গে ইবনে হাযঁমের নিম্মোক্ত মনত্দব্যটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য- ৯

অর্থাৎ “নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণের বর্ননা ধারাবাহিক সনদে নির্ভরযোগ্য বর্ননা কারীদের সূত্রে নবী করীম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম পর্যনত্দ পেঁৗছে যাওয়াটা বিশেষ করে আলস্নাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে দান করেছেন। যা পূর্বের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ছিল না। (কাওয়ায়েদুত তাহদীস)
আলস্নামা সূয়ুতী বলেন-ইরসালের পদ্ধতিতে যদিও সনদের ধারা অনেক ইহুদীদের মধ্যে পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের সনদ শেষ পর্যনত্দ হযরত মূসা আলাইহিস সালাম পর্যনত্দ পেঁৗছাতে পারে না। বরং তাদের ও মূসা আলাইহিস সালাম এর মধ্যখানে অনেক ব্যবধান থেকে যায়। অনুরম্নপভাবে নাছারাগন সম্পর্কে তিনি লিখেছেন- তাদের সনদ ‘শামউন’ ও ‘বুলস’ এর উপরে পেঁৗছাতে পারে না। সুতরাং সনদ ব্যতীত ইলমে হাদীসের অসত্দিত্বই বিপন্ন। তাই মুহাদ্দিসগণ সনদকে দ্বীনের অংশ হিসেবে সাব্যসত্দ করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনে সীরিন চমৎকার উক্তি করেছেন। যেমন তিনি বলেন_ ১০

অর্থাৎ “এই জ্ঞান হলো দ্বীন (ধর্মের অংশ)। কাজেই তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন গ্রহণ করতেছ তা দেখে নিবে”। অর্থাৎ হাদীস বর্ননাকারীর নির্ভরযোগ্যতা বিচার না করে যে কেউ হাদীস বর্ননা করম্নক না কেন তার নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করো না। কেননা হাদীস শুধুমাত্র জ্ঞান নয় বরং দ্বীন। যদি ত্রম্নটিযুক্ত হাদীস গ্রহণ কর তাহলে স্বীয় দ্বীনকে ত্রম্নটিযুক্ত করবে। অতএব খুব যাচাই করে দেখ তোমার হাদীসের বর্ননাকারী গ্রহণযোগ্য কিনা।
ইমাম মালেক (র:) বলেছেন- যে চার ব্যক্তি হতে ইলমে দ্বীন শিৰা করা যাবে না, তারা হলো (ক) নির্বোধ (খ) প্রবৃত্তির অনুসারী, আর সে অন্যকেও প্রবৃত্তির অনুসরনের দিকে আহ্বান করে। (গ) মানুষের সাথে মিথ্যা বলে। যদিও রাসূলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম এর হাদীস বর্ননায় মিথ্যার দ্বারা অভিযুক্ত নহে। (গ) মর্যাদাবান, ইবাদতকারী এবং সৎ; কিন্তু কি বর্ননা করতেছে এ বিষয়ে যথাযথ অভিজ্ঞতা নেই।
সনদের গুরম্নত্ব প্রসঙ্গে ইমাম মুসলিম (র:) মুকাদ্দমায়ে মুসলিমে প্রখ্যাত তাবে’ তাবেয়ী আব্দুলস্নাহ ইবনে মুবারকের উক্তি নকল করে বলেন – ১১

অর্থাৎ “হাদীসের সনদ বর্ননা করা দ্বীনের একটি অংশ।” যদি হাদীস প্রমাণের জন্য সনদের প্রয়োজনীয়তা না থাকত তাহলে যার যেমন ইচ্ছা বলতে পারত। অর্থাৎ মনগড়া বিষয়ে হাদীস রচনা করত”।

হাদীস বর্ননায় সাহাবায়ে কেরাম সনদের প্রতি এতই গুরম্নত্ব দিতেন যে, কোন সাহাবী উনাদের নিকট এমন কোন হাদীস বর্ননা করতেন যেটি সরাসরি তিনি নবী করীম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম থেকে শুনেছেন। তখন উনাকে বলা হতো- “প্রথমে আপনি এ কথার শপথ করম্নন যে, এ হাদীসটি আমি নবী করীম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম থেকে শুনেছি”।
হযরত আবু বকর (রা:) খুবই কোমল স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কিন্তু কোন হাদীস নির্বিচারে কবুল করার বিষয়ে তিনি ছিলেন খুবই কঠিন। একবার দাদীর মীরাস সম্পর্কে হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা (রা:) একটি হাদীস বর্ননা করলেন। আবু বকর (রা:) তাকে বললেন_ তোমার দাবীর সত্যতার মর্মে স্বাৰী পেশ কর। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা:) এ মর্মে সাৰ্য দিলে তিনি হাদীস খানা কবুল করেন। (ফজরম্নল ইসলাম) অনুরম্নপভাবে হযরত ওমর (রা:) এর নিকট একবার হযরত আবু মুসা আশহারী (রা:) একটি হাদীস বর্ননা করার পর তিনি স্বাৰী তালাস করেছিলেন। হাদীসটি নিম্নরম্নপ ১২

অর্থাৎ ” রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম ইরশাদ করেছেন- যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি (কারো ঘরের দরজায় গিয়ে) তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করে, অতঃপর তাকে অনুমতি না দিলে সে যেন ফিরে আসে”। (বুখারী শরীফ) অতঃপর হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) আবু মূসার পৰে স্বাৰী দিলে হযরত ওমর (রা:) হাদীসটি গ্রহণ করেন। (ফজরম্নল ইসলাম)

এভাবে হযরত আলী (রা:) বলেন- আমার সামনে কেউ কোন হাদীস বর্ননা করলে আমি তার নিকট থেকে রীতিমত ‘কসম’ গ্রহণ করে সত্যায়ন করে নেই। (আবু দাউদ)
অনুরম্নপ ভাবে ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বলেন-একদিন ইমাম ইবনে শিহাব জহুরী একটি হাদীস বর্ননা করছিলেন। আমি বললাম আপনি সনদ ছাড়াই হাদীসটি বলুন। তিনি বললেন _ ১৩
অর্থাৎ ” তুমি কি সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে আরোহন করতে চাও”?

এছাড়া পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে যাঁরা তাদের রচিত কিতাবে দলিল- প্রমাণের জন্য সনদ বিহীন যে সমসত্দ হাদীস উপস্থাপন করেছেন, সে সমসত্দ হাদীস গুলোর সনদ বর্ননার জন্য পরবর্তী ওলামায়ে কেরামের স্বতন্ত্র পুসত্দক রচনা করতে হয়েছে। যেমন আলস্নামা যাইলাঈ কর্তৃক রচিত ১৪
ও আলস্নামা সুয়ুতী কর্তৃক রচিত ১৫
ইত্যাদি উলেস্নখ্যযোগ্য।
এছাড়া যখন ইসলামে রাফেযী, খারেজী, কদরিয়া, জবরিয়া, মু’তাজিলা ইত্যাদি বাতিল ফেরকার আত্মপ্রকাশ ঘটল, নানাবিধ ফিতনার সৃষ্টি হলো এবং তারা নিজেদের ভ্রানত্দ আক্বীদা ও মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে হাদীস জালকরন আরম্ভ করল, তখন হাদীস গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বনের নিমিত্তে সনদের গুরম্নত্ব বৃদ্ধি পেল। ফলে রাবীগণের আক্বীদা ও আমলের যাচাই বাছাই আরম্ভ হল। তাই ওলামায়ে কেরাম রাবীদের নিকট তাদের বয়স, জম্মস্থান, হাদীস শিৰার জন্য দেশ ভ্রমন এবং শায়খের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণের স্থান ও সময়কাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। যেমনিভাবে তারা রাবীদের ব্যক্তিগত অবস্থাদি জিজ্ঞেস করে তাদের স্বভাব চরিত্র ও স্মরন শক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পরীৰা-নিরীৰা করতেন। যাতে তারা বর্ননাকারীর সত্য-মিথ্যা, সনদের ধারাবাহিক সংযুক্ততা বা বিচ্ছিন্নতা, হাদীস মারফু’ বা মাওকুফ হওয়া ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারেন। সনদ শাস্ত্রই ছিল তখন মিথ্যাবাদীদের প্রতিরোধ করার উত্তম অস্ত্র বা হাতিয়ার। যেমন এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস সুফিয়ান সওরী (র:) বলেন- ১৬

অর্থাৎ ” বর্ননাকারীগণ যখন মিথ্যা বলা আরম্ভ করল তখন আমরা তাদের প্রতিরোধে রাবীদের ইতিহাসকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করলাম”। (মাওসুআতু উলুমিল হাদীস)
অনুরম্নপভাবে হাফস ইবনে গিয়াস (র:) বলেন – ১৭
“অর্থাৎ যখন তোমরা শায়খকে মিথ্যা দ্বারা অভিযুক্ত করবে তখন তাকে সালের মাধ্যমে হিসাব করে নিবে। অর্থাৎ তার বয়স ও উসত্দাদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণের সময়কাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ‘মাওসুআতু উলুমিল হাদীস’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে যেমন- (ক) এক আলেম বলেন- মুহাম্মদ ইবনে হাতেম কাশীঈ আমাদের নিকট আবদ ইবনে হুমায়দের সূত্রে হাদীস বর্ননা করেন। তখন তাকে তার জম্ম সন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ২৬০ সনে জম্ম গ্রহন করেন বলে উলেস্নখ করেন। তখন আমি আমার সাথীদেরকে বললাম-এ ব্যক্তি আবদ ইবনে হুমায়দের মৃতু্যর ১৩ বছর পরে তার থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
(খ) ইসমাঈল ইবনে আয়য়াশ এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছেন, যিনি খালেদ বিন মা’দানের সূত্রে হাদীস বর্ননা করেছেন- আপনি কোন সনে খালেদ বিন মা’দান থেকে হাদীস লিখেছেন? তিনি উত্তর দিলেন- ১১৩ সনে । তখন ইসমাঈল বললেন, তাহলে আপনার দাবী অনুযায়ী আপনি খালেদ বিন মা’দানের মৃতু্যর ৭ বছর পরে তার থেকে হাদীস শুনেছেন।

হাদীস বিশারদগণ হাদীসের বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ৰেত্রে আক্বীদার বিষয়কে সবচেয়ে বেশী গুরম্নত্ব দিয়েছেন। কারণ প্রকৃত ইলমে দ্বীন অর্জন করার ৰেত্রে অত্যনত্দ সতর্কতা অবলম্বন করা জরম্নরী। আর প্রকৃত ইলমে দ্বীন শুধুমাত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের হক্কানী আলেমদের নিকট নিরাপদ হিসেবে থাকে। বাতিল ও ভ্রানত্দ মতবাদীদের নিকট প্রকৃত ইলমে দ্বীন নিরাপদ নয়। তাই রাবীদের আক্বীদা ও আমল যাচাই করে যদি প্রমাণিত হত যে, রাবী বাতিল ফেরকার অনত্দর্ভুক্ত। তাহলে তার বর্ননা গ্রহণ করা হত না। আর যদি সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনত্দর্ভুক্ত বলে প্রমাণিত হত, তখন তার বর্ননা গ্রহণ করা হত। এ প্রসঙ্গে মুকাদ্দমায়ে মুসলিমে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবনে সীরিনের নিন্মোক্ত উক্তিটি বিশেষভাবে প্রণিধান যোগ্য । যেমন- ১৮

অর্থাৎ ” ইবনে সীরিন (র:) থেকে বর্নিত, তিনি বলেছেন- প্রথম যুগে মানুষ হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না। কিন্তু পরে যখন ফিতনা আরম্ভ হলো, তখন শ্রোতাগণ বলতে লাগল যে, তোমাদের হাদীসের বর্ননাকারীদের নাম আমাদের নিকট উলেস্নখ কর। যদি বর্ননাকারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনর্ত্দভূক্ত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বর্ণিত হাদীস গ্রহণ করা হবে। আর যদি বর্ননাকারী বিদআতী হয় ( আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ব্যতীত অন্য যে কোন ভ্রানত্দ দলের অনর্ত্দভূক্ত হয় ) তাহলে তাদের হাদীস গ্রহণ করা যাবে না”।

এছাড়া নবী করীম সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম শেষ যামানায় আবিভর্ূত প্রতারক, মিথ্যাবাদী ও ভ্রানত্দ আক্বীদা পোষনকারী লোকদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ না করতে ও সর্তকতা অবলম্বন করতে আদেশ প্রদান করেছেন। যেমন মুকাদ্দমায়ে সহীহ মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে- ১৯

অর্থাৎ “হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মহানবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম ইরশাদ করেছেন- শেষ যুগে বহু দাজ্জাল ( অর্থাৎ মিথ্যাকে সত্য রম্নপ দাতা, প্রতারক ) ও মিথ্যাবাদী লোকের আবির্ভাব ঘটবে। তারা তোমাদের নিকট এমন কিছু হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা ইতিপূর্বে শ্রবণ করনি। আর তোমাদের পূর্ব পুরম্নষরাও শ্রবণ করেনি। তখন তোমরা তাদের নিকট থেকে দূরে থাকবে। যাতে তারা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে ও ফিতনায় ফেলতে না পারে”।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা ইহা সুস্পষ্ট রম্নপে বুঝা যায় যে, হাদীস বিশারদগণ হাদীস বর্ননা ও গ্রহণের ৰেত্রে সনদের উপর যথেষ্ট গুরম্নত্ব আরোপ করেছেন। হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ে সনদের গুরম্নত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই তারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে’-তাবেয়ীন ও তৎপরবতর্ী হাদীস বর্ননাকারী মুহাদ্দিসগণের জীবন বৃত্তানত্দ সম্বলিত অসংখ্য গ্রন্থ প্রণয়ন করে হাদীস সম্ভারকে সমৃদ্ধশালী করেন। ফলে উলুমুল হাদীসে ইলমুর রিজাল, ইলমুল জারাহ ওয়াত তা’দীল ও ইলমুত তাওয়ারিখ ওয়াল ওয়াফিয়াত এর ন্যায় নতুন নতুন শাখা প্রশাখার উন্মেষ ঘটে। সুতরাং সহীহ ও গায়রে সহীহ হাদীসের পার্থক্য নিরম্নপনে ইলমুল ইসনাদ তথা সনদ শাস্ত্র সম্পর্কে আমাদের যথাযথ জ্ঞান লাভ করা উচিত।

Advertisements

About sunniaaqida

sunniaaqida

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s