বিশ্বনবীর শ্রেষ্ঠতম ও স্থায়ী মু’জেযা আল-কুরআন

অধ্যক্ষ হাফেজ কাজী আব্দুল আলীম রিজভী

 

কুরআনে করীম মহামহিম আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের পবিত্রতম বাণী। সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠতম ঐশী মহা গ্রন্থ রাসূলে করীম রউফুর রহীম আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনন্য-অদ্বিতীয়, শ্রেষ্ঠতম ও শাশ্বত মু’জেযা। সর্বকালের সর্বযুগের সকল সৃষ্টি সর্ম্পকিত সকল বিষয়ের নির্ভূল ও র্নিভরযোগ্য বর্ণনায় সমৃদ্ধ এই কুরআন। সৃষ্টি ও ¯্রষ্টার মাঝে সেতু বন্ধন স্বরূপ এই কুরআন মহান আল্লাহর কুদরতের এক শক্তিশালী রজ্জু- যা ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসরত ম’ুমিনগনকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্যে-সান্নিধ্যে পৌঁছানোর মহৎ উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ। এক খোদায়ী মহাজ্যোতীর নাম এই কুরআন- যার বরকতময় স্পর্শে মুসলিম মিল্লাতের আক্বিদা-বিশ^াস, আমল-আখলাকের সঙ্গে সংমিশ্রণযোগ্য সকল প্রকার গোমরাহীর অন্ধকার দূরীভূত হতে বাধ্য। ঐশী মহাশক্তির আধার এই কুরআন- যার প্রভাব-প্রতিক্রিয়ায় ইহ-পরকালীন জীবনের সকল প্রকার ভয়-ভীতি, অক্ষমতা-অসহায়ত্ব, হতাশা-পেরেশানী চিরতরে বিদূরীত হওয়া অবশ্যম্ভাবী। জাগতিক ও পরকালীন জীবনের সকল স্তরে সকল প্রকার সম্মান-শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যদা-মহিমা, উন্নতি-সমৃদ্ধি-নিরাপত্তা ইত্যাদি সকল প্রকার কল্যাণ-মঙ্গল লাভের এক কুদরতী পরশ পাথর এই কুরআন। নিম্মে এই কুরআনের উপর সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল।

এই কুরআন কি? এর পরিচয় কিংবা সংজ্ঞাই বা কিরূপ ?

এ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন সূরায়ে “শুয়ারা” এর ১৯২-১৯৫ নং পর্যন্ত আয়াত চতুষ্ঠয়ে এরশাদ করেছেন- وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ . – অর্থাৎ “নিঃসন্দেহে এই কুরআন তো বিশ^ ভ্র‏‏হ্মান্ডের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবর্তীণ। (ও হে রাসূল দ:) “বিশ^স্ত আত্মা” তথা সাইয়্যেদুনা জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) একে নিয়ে অবতরন করেছে। আপনার অন্তঃকরনে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হন। সুপষ্ট আরবী ভাষায়”। উদ্ধৃত আয়াত চতুষ্ঠয়ের মর্মবাণীর আলোকে প্রতিভাত হয় যে, মহান আল্লাহর নিকট থেকে সাইয়্যেদুনা জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) এর পবিত্রতম অন্তঃকরনে সুপষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হওয়া শ্রেষ্ঠতম ঐশী মহাগ্রন্থের নাম কুরআনে করীম। সুতরাং বিশ^ জগতের কোন মানব রচিত গ্রন্থ কিংবা পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রচলিত অসংখ্য ভাষার মধ্য হতে আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় কৃত কুরআনের অনুবাদ কুরআন মজীদ রূপে আখ্যায়িত হতে পারে না। যেহেতু তা আল্লাহর তরফ হতে ফিরিশতা মারফত আরবী ভাষায় অবতীর্ণ নয়। কুরআনে হাকীমের সংজ্ঞা বা পরিচিতি ইসলামী শরীয়তের আইন শাস্ত্র বিশারদ উসূলবিদগন নিজেদের ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেছেন – اَلْقُرْآنُ هُوَ الْكِتَابُ اَلْمُنَزَّلُ عَلَى الرَّسُوْلِ عَلَيْهِ السَّلَامِ اَلْمَكْتُوْبُ فِي الْمَصَاحِفِ اَلْمَنْقُوْلُ عَنْهُ نَقَلًا مُتَوَاتِرًا بِلَا شُبْهَةٍ . – অর্থাৎ আল্লাহর তরফ হতে রাসূলে খোদা হাবীবে কিবরিয়া সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ। ছহীফা তথা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ এবং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দীর হয়ে বিশ^ মুসলিমের নিকট সন্দেহতীতভাবে ব্যাপক ও ধারাবাহিক বর্ণনায় বর্ণিত হওয়া ঐশী মহাগ্রন্থের নাম কুরআন শরীফ। উসূল শাস্ত্র বিশারদগনের প্রদত্ত সংজ্ঞার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়- আল্লাহর পক্ষ থেকে জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) এর মাধ্যমে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ ঐশী মহাগ্রন্থের নামই একমাত্র কুরআন এ বিষয়ে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ইজমা তথা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কুরআনে মজীদ এর অনন্য মর্যাদা-মহিমা সর্বোচ্চ ইজ্জত-আজমত-শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্দির জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এই কুরআন বিশ^ বিধাতা মহান‎ আল্লাহর বাণী। এ কুরআনের অবতরণ, সংরক্ষণ এবং বিশ^ মুসলিমের ঘরে ঘরে প্রচার-প্রসার নিশ্চিত করণ সবই সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহর কুদরতের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। এতদসংক্রান্ত বিষয়ে কোনরূপ সংশয়-সন্দেহ কিংবা আপত্তি উত্তাপন বা নেতিবাচক মন্তব্য করার অবকাশ দালিলিক তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে নেই। তাই মহান আল্লাহ্ সূরা আল-বাক্বারার সূচনায় দ্ব্যার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন- ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ – অর্থাৎ এটি এমন এক গ্রন্থ যাতে সন্দেহ-সংশয়ের কোন অবকাশ নেই। (এটি) পথ প্রদর্শনকারী আল্লাহ্ভীরুদের জন্য।

কুরআনে করীম সর্বোতভাবে সকল প্রকার সংশয়-সন্দেহের উর্ধ্বে। এটা যে রাসূলে আকরাম নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুস্পষ্ট মু’জেযা; তা অস্বীকারের উপায় নেই। তা সত্ত্বেও আরবের কাফের-মুশরিকরা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধিমত্তায় স্বল্পতা ও অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে কুরআন মজিদ প্রসঙ্গে সন্দেহ প্রবণ হয়ে মন্তব্য করে বসে-” لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا ” – অর্থাৎ ইচ্ছে করলে আমরাও অনুরূপ কুরআন রচনা করতে পারি। (নাউজু বিল্লাহ্) আবার কখনো তারা বলে বেড়ায়- এই কুরআন আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ নয়। বরং মুহাম্মদ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তা রচনা করেছেন। কুরআন বিদে¦ষী কাফের মুশরিকদের এহেন ভিত্তিহীন প্রোপাগন্ডার খন্ডনে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করতঃ সূরা “হুদ” এর তের নম্বর আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ – অর্থাৎ তারা কি বলে? (ও হে রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) কুরআন আপনি তৈরী করেছেন। আপনি (তাদের উদ্দেশ্যে) বলুন- তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (তোমাদের সাহায্যার্থে) ডেকে নাও। যদি তোমরা সত্যবাদী হও  (তোমাদের দাবিতে)। কুরআনে মজিদ আল্লাহর কালাম নয়, বরং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তা রচনা করেছেন। যদি তোমরা কাফিরগন তাই মনে করে থাক যে, এরূপ বিস্ময়কর কালাম নবীয় করীম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রচনা করেছেন। তাহলে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা রচনা করে পেশ করো। আর একই ব্যক্তি দশটি সূরা তৈরী করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। বরং সারা দুনিয়ার পন্ডিত, সাহিত্যিক, মানুষ ও জিন, তথা দেব-দেবী সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় তা রচনা করে আন। কিন্তু তারা যখন দশটি সূরা তৈরী করতে পারছেনা, তাই আপনি বলুন যে, এই কুরআন যদি কোন মানুষের রচিত কালাম হতো, তাহলে অন্য মানুষেরাও অনুরূপ কালাম রচনা করতে সক্ষম হতো। সকলের অপরাগ হওয়াই এর প্রকৃষ্ঠ প্রমান যে, এই কুরআন আল্লাহর অপরিসীম কুদরতে অবতীর্ণ হয়েছে। এটা রচনা করা মানুষের সাধ্যতীত। এর মধ্যে বিন্দু-বিসর্গ হ্রাস-বৃদ্ধি করারও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য যে, উপরিউক্ত আয়াতে দশটি সূরা তৈরী করার জন্য চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। কিন্তু তা করতে যখন তারা অপরাগ হলো, তখন তাদের অক্ষমতা আরো প্রকটভাবে প্রমাণ করার জন্য কুরআনে করীমের সূরা আল-বাকারার ২৩ নম্বর আয়াতে মাত্র একটি সূরা তৈরী করার চ্যালেঞ্জ করা হয়- যেমন এরশাদ হয়েছে-وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ – অর্থাৎ এতদসর্ম্পকে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আল্লাহ্ আমার (প্রিয়তম) বান্দার প্রতি অবর্তীণ করেছি,তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস। তোমাদের সে সব সাহায্যকারীদেরও সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া,যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ২৩)

ওহে কুরআন বিদ্ধেষী কাফের মুশরিকরা! তোমরা পবিত্র কুরআনকে যদি মানুষের তৈরী কালাম মনে করে থাক, তাহলে তোমরা বেশী নয়,অনুরুপ একটি মাত্র সূরা তৈরী করে পেশ করো। কিন্তু তাদের জন্য এতটা সহজ করে দেয় কুরআনে করিমের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জর মোকাবেলা করতে সক্ষম হলো না। অতএব কুরআন মজিদ আল্লাহর কালাম ও রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্পষ্ট স্থায়ী ম’ুজেজা হওয়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলো।

কুরআন অস্বীকারকারী বিধর্মীদের খন্ডনে মহান আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেন-أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا – অর্থাৎ এরা কি চিন্তা-গবেষণা করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে তৈরী হতো। তবে এতে অবশ্যই তারা বহু বৈপরীতা দেখতে পেত। (সূরা নিসা,আয়াত নং৮২)

পবিত্র কুরআনে মজিদে আলোচিত ও বিবৃত কোন একটি বিষয়েও কোন মতবিরোধ কিংবা কোনরূপ মতপার্থক্য নেই। অতএব এটা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে- আল-কুরআন আল্লাহর পবিত্রতম কালাম। মানব রচিত কোন গ্রন্থে এমন অপূর্ব সামঞ্জস্য হতেই পারে না। এ কুরআনের কোথাও না-আছে ভাষালংকারের কোন ত্রুটি, না আছে তাওহীদ, ঈমান, কুফর, শিরক, কিংবা হালাল-হারামের বিবরণে কোন স্ববিরেধিতা ও পার্থক্য। তাছাড়া অদৃশ্য বিষয়াবলীর মাঝেও এমন কোন সংবাদ নেই, যা প্রকৃত বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তদুপরি না আছে কুরআনের ধারাবাহিকতার কোন পার্থক্য যে, একটি হবে অলংকারপূর্ণ আরেকটি হবে অলংকারবিহীন। প্রত্যেক মানুষের ভাষ্য- বিকৃতি ও রচনা-সংকলনের ক্ষেত্রে পরিবেশের কম-বেশী প্রভাব অবশ্যই থাকে। আনন্দের সময় তা একধরনের হয়, আবার বিষাদে হয় অন্য রকম। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয় এক রকম, আবার অশান্তিপূর্ণ পরিবেশে অন্য রকম। কিন্ত আল্লাহ্র পবিত্রতম কালাম কুরআনে করীম এ ধরনের যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি, পার্থক্য ও স্ববিরেধিতা থেকে পবিত্র ও উর্ধেŸ। আর এটাই হলো কালামে ইলাহী হওয়ার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।(সুবহানাল্লাহ্

অতএব মহামহিম আল্লাহ্ কুরআনে করীমের সূরা বনী ইসরাঈলের ৮৮ নম্বর আয়াতে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন-قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا – অর্থাৎ (ও হে রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)“ আপনি বলুন, যদি মানব ও জি¦ন এই কুরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্য জড়ো হয় এবং তারা (মানব-জি¦ন) পরস্পরের সাহায্যকারী হয়। তবুও তারা কখনো এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না”।

রাসূলে পাক ছাহেবে লাওলাক আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ হওয়ার সময়ে এই চ্যালেঞ্জ বিশ^বাসীর উদ্দেশ্যে ঘোষিত হয়েছে। বিগত চৌদ্দশত বছর ব্যাপী এ চ্যালেঞ্জ অব্যহত রয়েছে এবং মহাপ্রলয় কেয়ামত অবধি এ চ্যালেঞ্জ বলবৎ থাকবে। তাই একজন সাধারণ মুসলমান আজও দুনিয়ার যে কোন জ্ঞানী-গুণী-পন্ডিত ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারে যে, কুরআনের সমতুল্য কোন আয়াত ইতিপূর্বেও কেউ রচনা করতে পারিনি, এখনও কেউ পারবে না এবং আগামীতেও কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব হবে না। তাই এই কুরআন রাসূলে পাক সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাপেক্ষা বড় ও দীর্ঘস্থায়ী ম’ুজেজা রূপে প্রমাণিত। বাস্তবিক পক্ষে রাসূলে খোদা হাবিবে কিবরিয়া সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মু’জেযা র তো অন্ত নেই এবং প্রত্যেকটি বিস্ময়কর; বরং রাসূলে করীম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র শির মোবারক হতে পদযুগল মোবারক পর্যন্ত আপাদ মস্তকই কুদরতে ইলাহিয়্যাহ্র মহা নির্দশন ও ম’ুজেজা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর শ্রেষ্ঠতম মু’জেযা  হচ্ছে কুরআনে করীম । এ মু’জেযা  অন্যান্য নবী-রাসূলগণের মুজেজা অপেক্ষা স¦তন্ত্র। কেননা মহান আল্লাহ্ তাঁর অপার কুদরতে নবী-রাসূল প্রেরণের সাথে সাথে কিছু মু’জেযা ও প্রকাশ করেন । আর এসব ম’ুজেজা যে সমস্ত রাসূলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো তাঁদের জীবন-কাল পর্যন্তই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কুরআনে করীমই এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী ও বিস্ময়কর মুজেজা যা মহাপ্রলয় কেয়ামত অবধী বিদ্যমান থাকবে (সুবহানাল্লাহ)।

মহান আল্লাহ্ই কুরআনে করিমের হেফাজতকারী: উল্লেখ থাকে যে, পূর্ববর্তী আসমানী মহাগ্রন্থ তাওরাত-ইঞ্জিলের হেফাজতের জিম্মাদারী সোর্পদ করা হয়েছিল ইয়াহুদী-খ্রীষ্টান্দের উপর। এ কারণেই যখন ইয়াহুদী-খ্রীষ্টানরা তাওরাত-ইঞ্জিলের হেফাজতের দায়িত্ব পালন করেনি তখন এ গ্রন্থদ্বয় বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে বিনষ্ট হয়ে গেছে। তাই কুরআনে করীমের অবতরণ ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের সুস্পষ্ট ঘোষনা-إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ – অর্থাৎ “নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ্ই স্বয়ং এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক”। (৯ নং আয়াত, সূরা হিজর)

মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন স্বয়ং এই কুরআনের হেফাজত করার কারণে শত্রুরা হাজারো চেষ্টা সত্ত্বে ও এর একটি নোক্তা এবং যের-যবরে কোনরূপ পার্থক্য আনতে পারেনি। রাসূলে করীম সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বেছাল শরীফের পর আজ চৌদ্দশত বছর অতীত হয়ে গেছে। ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়াবলীতে মুসলমানদের ত্রুটি ও অমনোযোগিতা সত্ত্বে ও কুরআনে করীম মুখস্ত করার ধারা বিশে^র সর্বত্র পূর্ববৎ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি যুগেই লাখে লাখে বরং কোটি কোটি মুসলমান যুবক, বৃদ্ধ এবং বালক-বালিকা এমন বিদ্যমান থাকে, যাদের বক্ষে কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে। কোন বড় থেকে বড় আলেমের সাধ্য নেই যে, এক অক্ষর ভুল পাঠ করে। তৎক্ষনাৎ বালক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে অনেক লোক তার ভুল শোধরিয়ে দেবে। এভাবে মহান আল্লাহ্ বিগত চৌদ্দশত বছর ব্যাপী কুরআন মজীদকে হেফাজত করছেন এবং কেয়ামত অবধী এই কুরআন সর্ম্পূণ অক্ষত, অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকবে।

Advertisements

About sunniaaqida

sunniaaqida

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s